rabbhaban

রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ তবুও কেন সমর্থক হত্যার বিচার হয় না


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৭ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ তবুও কেন সমর্থক হত্যার বিচার হয় না

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে একটি বর্বোরোচিত ঘটনা হচ্ছে ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসের বোমা হামলা। এই হামলায় নারায়ণগঞ্জে অনেকগুলো তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছে। যেই হামলায় এখনও আঁতকে উঠেন নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিচার পাননি নিহতদের স্বজনরা। প্রতিবারই তারা চোখের জলে বুক ভাসিয়ে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ১৬ জুন রোববার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে চোখের জলে বিচার চাইলেন নিহতদের স্বজনরা।

শ্রদ্ধা জানাতে এসে নিহত পলি বেগমে বড় মেয়ে ফারজানা আক্তার রুমা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সকলেরই বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। দেশে কত হত্যকান্ডেরই বিচার হচ্ছে। কিন্তু এই বোমা হামলার ঘটনায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা বিচার পাচ্ছি না। এখানে যারা নিহত হয়েছে তারা আওয়ামী লীগের। আর বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু আমরা এই সরকারের আমলেও বিচার পাচ্ছি না। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, কত কষ্টে আমাদের জীবন যাপন করতে হচ্ছে, সেই খবর কেউ নেয় না। শুধুমাত্র ১৬ জুন আসলেই আমাদের একটু খোঁজ খবর নেয়া হয়। আমরা কথা বলার সুযোগ পাই না। কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় না। আমাদের কারও কাছে চাওয়ার সুযোগ নাই। এসব কথা বলতে গিয়ে বারবার ফুপিয়ে কেঁদে উঠছিলেন আর তখন চোখ পানি ঝরছিল।

নিহত নজরুল ইসলাম বাচ্চুর স্ত্রী হামিদা ইসলাম বলেন, আওয়ামীলীগের সরকারের আমলে আমরা কেন অবহেলিত। কেন আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়া হয় না। আমার স্বামী আওয়ামীলীগ করতে গিয়ে নিহত হয়েছে। আমার স্বামী দ্বারা আমার পরিবার সুখী হয়েছিল। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। আমাদের অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছে তাদের স্বীকৃতি নেই। আমরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চাই। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আমাদের কথাগুলো বলতে চাই।

নিহত হালিমা বেগমের ছেলে রুবেল বলেন, আমাদের অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সরকার অথবা অন্য কেউ যদি আমাদের অনুদান দিত তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো। বোমা হামলায় নিহতদের স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছি। কিন্তু আমাদের কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বোমা হামলায় দুই পা হারানো মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, নিহত নজরুল ইসলাম বাচ্চুর স্ত্রী হামিদা ইসলাম, নিহত পলি বেগমের মেয়ে ফারজানা আক্তার রুমা ও ঝুমা, নিহত হালিমা বেগমের ছেলে রুবেল, নিহত দেলোয়ার হোসেন ভাষানী, রাজিয়া খাতুন, নিধুরাম বিশ্বাস ও অব্দুল আলীমের পরিবারের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়াস্থ আওয়ামী লীগ অফিসে দেশের ভয়াবহ নৃশংস বোমা হামলায় মারা যান ২০ জন হতভাগ্য। সেদিন আহত হয়েছিলেন ওই সময়ের ও বর্তমান এমপি শামীম ওসমান সহ অর্ধ শতাধিক, অনেকেই বরণ করে নিয়েছে পঙ্গুত্ব, কেঁদে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। দীর্ঘ ১৮ বছরেও এ মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে নিহত পরিবার ও আহতদের।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর