জয়ে উজ্জীবিত ওসমান বলয়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
জয়ে উজ্জীবিত ওসমান বলয়

৫ম ধাপে অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলা নির্বাচনে ওসমান বলয়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিতরা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনের প্রত্যেকটি আসনেই ওসমান বলয়ের অনুগামীরা জয়ের মালা পড়েছে। যেকারণে এই বলয়টি ফের উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। কারণ বন্দর উপজেলা নির্বাচনে আইভী মেরুর প্রার্থীদের মাইনাস করে ওসমান বলয় একচেটিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে। আর তাতে করে ওসমান বলয়ের জয়ের উচ্ছ্বাস দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

১৮ জুন মঙ্গলবার দেশের ১৭টি উপজেলার সাথে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় প্রথমেই চেয়ারম্যান পদে জয় নিশ্চিত করেছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, পরে ভোটের লড়াইয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বন্দর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সালিমা হোসেন শান্তা।

জানা গেছে, নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টি নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু উড়োজাহাজ প্রতিকে ১১ হাজার ৬শ ৪৪ ভোট, আকতার হোসেন বই প্রতিকে ২ হাজার ৪শ ৬৮ ভোট,  নুরুজ্জামান তালা প্রতিকে ২ হাজার ৪শ ৯ ভোট, হাফেজ পারভেজ হাসান চশমা প্রতিকে ২শ ৬৮ ভোট ও শহীদুল ইসলাম জুয়েল টিউবওয়েল প্রতীকে ৪শ ৮৭ ভোট পেয়েছেন।

নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার কলস প্রতিকে ৪ হাজার ১শ ৪২ ভোট, বন্দর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সালিমা হোসেন শান্তা ফুটবল প্রতিকে ১১ হাজার ৩শ ৩৭ ভোট ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী নুরুন্নাহার সন্ধ্যা হাঁস প্রতীকে ১ হাজার ৮শ ১০ ভোট পেয়েছেন।

এর আগে বন্দর উপজেলা নির্বাচনের আগে মনোনয়ন ইস্যুতে তৃণমূলের সম্মতিতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারী কেন্দ্রে তিন জনের নাম পাঠায়। সেই তালিকায় জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগে সভাপতি এম এ রশিদ ও মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।

জানা গেছে, বন্দর উপজেলা নির্বাচনের শুরু থেকেই মেয়র আইভী বলয়ের একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান প্রার্থী হওয়ার জন্য ইচ্ছা পোষণ করে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার ফলে উপজেলা নির্বাচনে এই নেতার নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রসারিত হয়। এ নিয়ে ওসমান বলয় ও আইভী বলয়ের মধ্যে বাকযুদ্ধ দেখা যায়।

সেসময় ১৪ মার্চ একটি সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আসেন আলোচনায় বসেন উপজেলা নির্বাচনে কাকে আপনারা মনোনীত করবেন। আপনারা চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান দিতে হবে। অন্যথায় কোন সমঝোতা হবে না। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুই পদেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিবে। বাংলাদেশের কোথাও এমন রেকর্ড নাই যেখানে একটি উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। আর হিসেব করলে দেখা যাবে বেশিও ভাগ ওয়ার্ড সদস্যই আমাদের জাতীয় পার্টির। সুতরাং আমাদের সাথে তালবাহানা করবেন না। যদি গুলি খেতে হয় তবে আমরা গুলিই খাবো। তবুও আল্লাহ রহমতে বন্দরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ। যত বড় নেতাই আসেন না কেন, যদি সেটা শামীম ওসমানও হয় তবুও বলবো আসনে বসেন আমাদের সাথে আলোচনা করেন কাকে চেয়ারম্যান বানাবেন। প্রয়োজন পড়লে নিরপেক্ষ লোককে আমরা বিজয়ী করবো তবুও কারো কাছে মাথানত করবো না।

তখন এক সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইকে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। তবে শেষতক কেন্দ্র থেকে অনেকটা চমক দেখিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া হয়। সেখানে সমঝোতার মধ্য দিয়ে অন্য কোন প্রার্থীকে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দেখা যায়নি। যার ফলে রশিদ নৌকা প্রতিকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় লাভ করে।

অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সমঝোতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের পর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি নেতা সানাউল্লাহ সানুকে ছাড় দিয়েছিল অপর প্রার্থীরা। সে কারণে রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল বাকি চার প্রার্থী। তবে প্রতিক বরাদ্দ হওয়ার ফলে বাকি ৪ জনের মার্কায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই ৪ প্রার্থী জাপা নেতা সানুকে সমর্থন দেয়ার ফলে তাদের ভোগগুলো সানুর ব্যালট বাক্সে পড়েছিল তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর তাতে করে জাপা নেতা সানু নির্বাচনের আগেই বিজয় নিশ্চিত করেছিল। সানু ওসমান বলয়ের আস্থাভাজন অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনের আগে তিন নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেছিল উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। সেই সমঝোতা বৈঠকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে বন্দর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সালিমা হোসেন শান্তাকে নির্বাচনে ছাড় দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এতে তিন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচন করতে অনড় রয়েছেন। তবে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে সমঝোতা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে নাটকীয়তা যাই হোকনা কেন ওসমান বলয়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত শান্তা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে।

সূত্র বলছে, দুই বলয়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীতার ফলে এক মেরু অপর মেরুকে ল্যাং মারতে প্রস্তুত হয়ে থাকে। আর যে কোন ইস্যুতে জয় ছিনিয়ে অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। এ নির্বাচনেও তেমনটি হয়েছে। যেকারণে ওসমান বলয়ে বেশ উজ্জীবিত হয়েছে। কারণ প্রত্যেকটি আসনে তাদের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর