লাশের মিছিলে ২ খুন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৮ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার
লাশের মিছিলে ২ খুন

নারায়ণগঞ্জে লোভ-লালসা, ক্ষোভ ও শত্রুতার জের ধরে খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব ঘটনার প্রত্যেকটিতে এক একটি লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ উঠে আসছে। এতে করে খুন আতঙ্ক ক্রমশ বেড়ে চলেছে।

৭ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহের ২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

১৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় চালকের লাঠির আঘাতে আহত হেলপার অন্তর চন্দ্র দাস (২১) মারা গেছে। ঘটনার চারদিন পর শনিবার দুপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় কাভার্ডভ্যান চালক ওমর ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত অন্তর চন্দ্র দাস বন্দর স্কুল ঘাট মালেকের বাড়ি ভাড়াটিয়া অনন্ত চন্দ্র দাসের ছেলে। সে তার মা শেফালী রানী দাসের সাথে বন্দরের মালেক মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

শেফালী রানী দাস জানান, অন্তর চন্দ্র দাস একটি কাভার্ডভ্যানের হেলপার হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি তার শরীর খারাপ ছিল। প্রচন্ড জ্বর নিয়েও ৯ জুলাই কাজে যায় অন্তর। সেদিন অন্তরকে গাড়ি পরিস্কার করতে বলেন চালক ওমর ফারুক। তখন অন্তর অনীহা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে ওমর ফারুক। গাড়িতে থাকা লাঠি দিয়ে প্রচন্ড আঘাত করা হয়। পরবর্তীতে অন্তরকে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে অন্তরকে বাসায় নেওয়া হয়। শনিবার সকালে অবস্থার অবনতি ঘটলে অন্তরকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্ত্রীকে পাওয়া গেছে কোপানো রক্তাক্ত জখম অবস্থায়। আর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বিষপানে। পুলিশ ও পরিবারের ধারণা, স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পরেই আত্মহত্যা করেছে স্বামী তারা সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই বোন।

মঙ্গলবার ভোরে ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় মোশারফ হোসেনের বাড়িতে এঘটনা ঘটে। আত্মহননকারীর নাম জামাল হোসেন (৩৫)। নিহত স্ত্রী পলি বেগম (২৮) ফকির গার্মেন্টের শ্রমিক। তাদের মধ্যে পলি আক্তার পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ থানার ময়দশ্রীনগর এলাকার শাহজাহান শিকদারের মেয়ে ও জামাল হোসেন একই উপজেলার সুবিদখালীর সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

নিহত পলির ছোট ভাই মাঈনুল ইসলাম জানান, পলির আগের বিয়ে হয়েছিল। সেই সংসারে ছেলে সন্তান রয়েছে। ডিভোর্সের পর জামালকে বিয়ে করে পলি। কয়েকদিন ধরেই জামাল হোসেনের সঙ্গে পলি বেগমের কলহ চলে আসছিল। ইতোপূর্বেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে জানতে পারি দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক। দ্রুত ঘরে গিয়ে দেখি দুইজন পাশাপাশি পড়ে আছে। পলির মুখ ভর্তি রক্ত দাত নাই। আর জামালের মুখ দিয়ে ফেনা বেরুচ্ছে। এসময় আশপাশের লোকজন ডেকে এনে তাদের দুজনকে শহরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরী বিভাগের ডাক্তার পলিকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তারের পরামর্শে জামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে খুনের মিছিলে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছেনা। খুনের মত জঘন্যতম ঘটনায় স্বজনহারাদের কান্নায় প্রিয়জনরা বুক ভাসাচ্ছে। এতে করে পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর