rabbhaban

তীব্র পানি সংকটে বন্দরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৯ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
তীব্র পানি সংকটে বন্দরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ওয়াসার তীব্র পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এই সংকটের ফলে ওয়াসা কর্র্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করলেও তা অপ্রতুল হওয়ায় পানি যুদ্ধের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে করে পানির দুর্ভোগে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠছে। আর অচিরেই এই সংকটে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিচ্ছে।

১৬ জুলাই বন্দর উপজেলার ছালেহনগর, রুপালী আবাসিক এলাকা, বাবু পাড়া সহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় এই পানি সংকটের চিত্র দেখা যায়। রুপালী আবাসিক এলাকায় ওয়াসার পানি পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। একারণ গত কয়েকদিন ধরে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ৫দিন যাবত রুপালী আবাসিক এলাকার ওয়াসার পাম্প বিকল হয়ে পড়ায় আশেপাশের এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে এই সংকট এতোটই প্রকট হয়েছে যে, এখন পানি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। এর ফলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে। তবে সেই পানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পানি সংগ্রহ করতে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তবে এই হুড়োহুড়ি এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পানি নিয়ে লড়াই শুরু হয়ে যায়। যেকারণে প্রায়ই নানা অঘটন ঘটছে।

ছালেহনগর এলাকার মেহেরুন বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল হতেই পানি সংগ্রহ করতে কলসি-বালতি নিয়ে ওয়াসার পানির গাড়ির দিকে ছুটতে হয়। তবে সেখানে যতটুকু পানি দেয়া হয় তা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। একারণে সেখানে প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে দিয়ে সবাইকে লড়াই করতে হয়। এ নিয়ে নানা বাকবিত-া সহ ঝগড়া-লড়াইয়ে ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু পানি সংকট কিছুতেই মিটছেনা। এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধা করতে হলে এই এলাকায় ওয়াসার পাম্প স্থাপন করতে হবে যা আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু এই দাবি এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছেনা।

পাশের বাবুপাড়া এলাকার রেহেনা আক্তার জানান, সম্প্রতি পানি সংকট আরো তীব্র হয়েছে। তাই প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে ওয়াসার গাড়ির দিকে ছুটতে হয়। আর তাতেও চাহিদা পূরণ না হলে অন্যত্র থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।

বন্দরবাসীর দাবি, ‘কিছুদিন পরপর ওয়াসার পানি সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ইতোমধ্যে এলাকা ভিত্তিক পৃথক পৃথক ওয়াসার পাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। কিন্তু সেই দাবি আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। যেকারণে এই সংকট কিছুদিন পরপর বন্দরবাসীর ঘাড়ে চেপে বসছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আন্দোলনের সংগ্রাম করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকবেনা।

অন্যদিকে জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী জানান, ওয়াসাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অধীনে হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আগামী ১৬ জুলাই এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে তাদের মিটিং হবে। ওই মিটিংয়ে ওয়াসাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াসার পানি সরবরাহ করতে সমর্থ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরে কিছুদিন পরপর ওয়াসার পানি সংকট দেখা দেয়। কিন্তু এর কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছেনা। যেকারণে এই দুর্ভোগ বারবার বন্দরবাসীর ঘারে চেপে বসছে। তবে নাসিক মেয়র ইতোমধ্যে সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন জন্য উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছেন। এবার সিটি করপোরেশনের কাছে ওয়াসার দায়িত্ব অর্পিত হওয়া নিয়ে কথা চলছে। কিন্তু বন্দরবাসীর দাবি, যে বা যারাই দায়িত্বে থাকুকনা কেন বন্দরবাসীর ওয়াসার পানি সংকট যেন স্থায়ীভাবে সমাধান হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর