নির্বাচনে থাকলো না ছাত্রদল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
নির্বাচনে থাকলো না ছাত্রদল

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন সভাপতি মশিউর রহমান রনি। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে তিনি তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। সেই সাথে তার প্রতি জেলা ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রয়েছে অনেক ক্ষোভ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার মশিউর রহমান রনি সহ অন্যান্য নেতাদের গাফলতির কারণে রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংসদ নির্বাচন থেকে ছিটকে গেল কলেজ শাখা ছাত্রদল। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে কলেজ শাখা ছাত্রদলকে জাগিয়ে রেখেও শেষ পর্যন্ত তাদের আর কলেজ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হলো না।

জানা যায়, রূপগঞ্জের একমাত্র কলেজ মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ যেখানে ছাত্র রাজনীতি সচল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এখন পর্যন্ত কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সেই সাথে ক্ষমতার বাইরে থেকেও এই কলেজে শাখা ছাত্রদল সরব রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলেজে ছাত্রদলের ব্যানারও টানানো হয়ে থাকে। যদিও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে এই কলেজ সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত  হচ্ছিল না। তবে এই ১০ বছর ধরে কমিটি ছাড়াও কলেজ শাখা ছাত্রদলকে জাগিয়ে রেখেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রিপন, কাজীদুল শান্ত ও আকিব হাসান সহ ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এদিকে দীর্ঘ ১০ বছর পর আগামী ২৭ জুলাই রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে কলেজ শাখা ছাত্রদলকে জাগিয়ে রাখা মেহেদী হাসান রিপন, কাজীদুল শান্ত ও আকিব হাসানও নিবার্চনের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। নির্বাচনী আলাপ আলোচনার শুরু থেকেই তারা কলেজে প্রচার প্রচারণাও চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের শেষ দিন ১৬ জুলাই বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা তাদের মনোনয়ন ফরম ক্রয় করা হলো না।

এর কারণ হিসেবে কলেজ সংসদ নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী মেহেদী হাসান রিপন জানান, আমরা আমাদের প্যানেল ঠিক করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমাদের কোন কিছু বলা হয়নি কিংবা কোন দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়নি। আমরা মনোনয়ন ফরম ক্রয়ের শেষদিন ১৬ জুলাই বিকেল পর্যন্ত জেলার নির্দেশনার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের গাফলতির কারণে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কলেজ শাখা ছাত্রদলকে জাগিয়ে রেখেও সংসদ নির্বাচন থেকে সড়ে যেতে হলো।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় আমরা অনেক দিন ধরে কলেজ শাখা ছাত্রদলকে জাগিয়ে রেখেছিলাম। ফলে কলেজে আমাদের প্রতি সাধারণ ছাত্রদের ভাল সমর্থন ছিল। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের চারটি প্যানেল  হয়েছে। সেই সূত্র ধরে কলেজ সংসদ  নির্বাচনে আমাদের নিশ্চিত জয় ছিল। কিন্তু জেলার ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের কারণে ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায়ও আমাদের নিশ্চিত জয় থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে।

রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদল নেতা আবু মাসুম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্ব পেয়েছেন। যদি তাদের নেতৃত্ব দিতে মন না চায় কিংবা ভালভাবে পালন না করতে পারে তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া উচিত। কিন্তু ইউনিট ছাত্রদলের নেতাদের আবেগ অনুভূতি নিয়ে খেলার অধিকার তাদের নেই। 

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর