rabbhaban

অবশেষে শাস্তির আওতায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার
অবশেষে শাস্তির আওতায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা

বিভিন্ন নির্বাচনগুলোতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের ইন্ধন দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। আগামী ২৮ জুলাই থেকে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের। সেই তালিকায় এবার নারায়ণগঞ্জেও কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতারা শাস্তির খড়গে পড়তে যাচ্ছেন। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতাদের নির্বাচন করতে দেখা গেছে। সেই বিদ্রোহী নেতারা শাস্তির আওতায় পড়তে যাচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই নির্বাচনে জেলার তিনটি উপজেলায় প্রথম বারের মত দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রত্যেকই উপজেলা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করেছে। যদিও শেষতক নৌকার জয়জয়কার দেখা গেছে।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বিপুলে ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন মোল্লা। ইকবাল ওই আসনের এমপি নজরুল ইসলামের ভাগ্নে। যেকারণে এমপি বাবুর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলী লীগের নৌকা প্রতীকে মো. শাহ জাহান ভূইয়া বিশাল জয় পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন আনারস প্রতীকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. তাবিবুল কাদির তমাল।

সোনারগাঁও উপজেলার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকে মো. মোশারফ হোসেন বিশাল জয় পেয়েছেন। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। তাছাড়া কালাম স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার আস্থাভাজন নেতা হওয়ার ফলে এই বিদ্রোহীতার নেপথ্যে তার হাত রয়েছে বলে গুঞ্জন ছিল। কারণ নির্বাচনের সময় এ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছিল।

এছাড়াও আরো অনেক প্রার্থী নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও নানা কারণে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। তাছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনের বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি দেখা গেলেও পরবর্তীদের নানা কারণে সেসব বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।

এদিকে ২০ জুলাই এক সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে বা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দিয়ে যারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন আগামী ২৮ জুলাই থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে। ওই দিন থেকে তাদেরকে শোকজের চিঠি দেওয়া শুরু হবে।

তিনি বলেন, শুক্রবার ১৯ জুলাই)পর্যন্ত মোট ২০০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ আসছে। নতুন করে আসা অভিযোগগুলো অভিযোগ সাংগঠনিক সম্পাদকগণ খতিয়ে দেখবেন। ২৭ জুলাই পর্যন্ত স্ব স্ব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকগণ অভিযোগ দেখে ২৮ জুলাই থেকে ব্যবস্থা নেবেন।

শাস্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সাংগঠনিক সম্পাদকরা অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর তাদেরকে শোকজ করা হবে। তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা শোকজের জবাব দেবেন। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগে বিগত নির্বাচনগুলোতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের নানা চিত্র দেখা গেছে। এরুপ বিশৃঙ্খলতা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় দলের ভেতরে বিদ্রোহীতার কারণে বেশ পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর