rabbhaban

কমিটি বাণিজ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, সাংগঠনিক শক্তিশালী মহানগর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
কমিটি বাণিজ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, সাংগঠনিক শক্তিশালী মহানগর

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষকী ১৯ আগস্ট সোমবার। এদিন এই সংগঠনটি ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এই সংগঠনের বিষয়ে বলেছিলেন, সৎ নিষ্ঠাবান কর্মীদের সমন্বয়ে এই সংগঠনটি গড়ে তোলা হবে। অন্যরা যেখানে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারীসহ যে কোনো জাতীয় দুর্যোগ ও দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যর্থ হবে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে এগিয়ে যাবে।

তবে তাঁর এই কথার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেটাই লক্ষণীয় হয়ে উঠছে। যদিও বিএনপির দলীয় ঘোষিত কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমান জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির ১ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। আর এই এক বছরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ৭ জুন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আবুল কাউসার আশা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাখাওয়াত ইসলাম রানা দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ছিলেন জেলার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক চৌধুরী স্থান পেয়েছিলেন। এই কমিটি ঘোষণার এক বছরের মধ্যেই তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এসেছেন।

গত ৭ আগস্ট ১৬১ বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল। গত ৮ আগস্ট গণমাধ্যমে এ তালিকা প্রদান করা হয়। কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে আবুল কাউসার আশা, সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাখাওয়াত হোসেন রানাকে ও সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে অহিদুল ইসলাম ছক্কু। কমিটিতে ১৬ জন সহ সভাপতি, ৭ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১৪ জন সহ সম্পাদক, ৮ জন সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, ৭৫ জন বিভিন্ন সম্পাদক ও সহ সম্পাদক এবং বাকি ৩৬ জনকে সদস্য করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রসঙ্গে সভাপতি আবুল কাউসার আশা জানিয়েছেন, যারা যোগ্য ও ত্যাগী তাদেরকে কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সকলেই তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন বলে প্রত্যাশা করি। ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৫ আগস্ট কালিরবাজার মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রস্তুতিতমূলক সভা করেছেন। সভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের বিষয় নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির নেতৃবৃন্দদের পরামর্শ নেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউছার আশা বলেন, যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে লালন করে তারাই বিএনপির রাজনীতি করে। আর যারা এই কমিটিতে স্থান পেয়েছে তাদের অধিকাংশই নির্যাতিত। যিনি এই কমিটির সদস্য পদে আছেন আমি মনে করি তিনি মহানগরের প্রতটি ওয়ার্ডে রাজনীতি করার যোগ্যতা রাখে। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে একটু চেষ্টা করি তাহলে সর্বকালের সেরা হিসেবে এই কমিটিকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব।

এদিকে ২০১৮ সালের ২৫ জুন কেন্দ্রীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন। আর এতে সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, সেক্রেটারি পদে মাহাবুব রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন দেওয়ানকে আসীন করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সালাউদ্দিন সালুকে। এই কমিটি ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আসতে পারেননি। তারা পূর্বের কমিটির ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। সেই সাথে আন্দোলন সংগ্রামেও তারা তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং এখানে আছে নানা অভিযোগ। বিভিন্নজনের কাছে পদ বিক্রির প্রলোভন, সোনারগাঁয়ের এক নেতার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে।

এর আগে প্রায় এক যুগ পূর্বে জাহিদ হাসান রোজেলকে আহ্বায়ক ও আকরাম প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান, ফারুক চৌধুরী, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সালাউদ্দীন সালু, মনজুর হোসেন, গাজী জহিরুল ইসলাম, সর্দার শামীম লুনা সহ মোট ১২ জন। কয়েক বছরের মাথায় গাজী জহিরুল ইসলাম পদত্যাগ করেন। বিভক্তি হয়ে একদিকে রোজেল, আনোয়ার প্রধান কমিটি গঠন করেন। অন্যদিকে আকরাম প্রধান ও রিয়াদ চৌধুরী পাল্টা কমিটি গঠন করেন। এ  নিয়ে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা করেন। কিন্তু এসব কর্মকান্ডের মাঝে দুই চারজন বাদে বাকিদের দেখা যায়নি। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে কোন ধরনের জোরালো ভূমিকা নেই বললেই চলে এই সংগঠনটির। যে কারণে আহ্বায়ক কমিটির কাউকেই রাখা হয় নি কমিটিতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর