rabbhaban

১৬ জুন ও শামীম ওসমানের উপর বোমা হামলার বর্ণনা দিলেন স্ত্রী লিপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
১৬ জুন ও শামীম ওসমানের উপর বোমা হামলার বর্ণনা দিলেন স্ত্রী লিপি

‘‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমি দেশে ছিলাম না। আমি কানাডায় ছিলাম। আসলে আমাদেরকে থাকতে দেওয়া হয়নি। ২১ আগস্টের আমার বাসার ল্যান্ড ফোনে ফোন আসে। ফোন করেছিলেন সজিব ওয়াজেদ জয়। ফোন ধরার পর আমাকে ভাবী ডেকে বললেন, ‘ভাবী ঢাকায় আর একটি কেয়ামত হয়ে গেছে। মাকে আবার মারতে চেষ্টা করা হয়েছে। বোমা হামলা হয়েছে। অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। আইভী চাচি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।’ আমি বললাম আপা কেমন আছে? উত্তেরে জয় বললেন, ‘মা ভালো আছে।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে আয়োজিত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে ১৬জুন নারায়ণগঞ্জে ঘটিত বোমা হামলার দৃশ্য তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি যিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের সহধর্মীনি

তিনি আরো বলেন, ফোনে কথা বলে আমি সেখানেই বসে পরি। নারায়ণগঞ্জের ১৬জুনের সেই বোমা হামলার ঘটনা আমার মাথায় ঘুরছিল। আমি উপস্থিত হয়েছিলাম সেই রক্তাক্ত স্থানে যেখানে পড়ে ছিল নিহত মানুষগুলো। আমি যখন খানপুর হাসপাতাল দিয়ে হাটছিলাম কারো হাতের অংশ কারো আঙ্গুল কারো পা সরিয়ে দিয়ে রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছিল। আমার স্যান্ডেলের সোল রক্তের নিচে ডুবে যাচ্ছিল। আমি সেই নৃশংসতা দেখেছি। আধা ঘণ্টার জন্য জানতাম আমি বিধাব হয়েছি। আধাঘণ্টার জন্য জানতাম শামীম সাহেব ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আমি মেইন রোড দিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। আমাকে কেউ একজন রিকশায় তুলে আমার বাবার বাড়িতে নিয়ে গেল। আমি তার নাম জানি না। সেখানে গিয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। আধাঘণ্টা পরে আমি জানতে পারি শামীম সাহেব বেঁচে আছেন তিনি হাসপাতালে আছেন। কিন্তু আমাদের অনেকে নাই।

লিপি বলেন, ‘সিএমইচ এ গিয়ে যখন পৌছালাম তার আগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার ফোনে কথা হল। উনি শুধু আমাকে এই কথা বললেন যে ‘শামীমকে নিয়ে ঢাকায় রওনা হও। যারা এই হামলা করেছে তারা আবার করবে। থেকো না নারায়ণগঞ্জে তোমার আশেপাশে কারা আছে তাকে দাও আমি ফোনে বলে দিচ্ছি।’

তিনি জিজ্ঞেস করলেন শামীম কেমন আছে? আমি বললাম, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি শ্বাস নিচ্ছে কিন্তু হাত পা আছে কি না আমি দেখিনি।’ আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ভিপি বাদল ভাই তাকে দিলাম। তিনি ওনাকে নির্দেশ দিলেন। আমরা রাতেই সিএমএইচ এ চলে গেছি।

জাতীয় মহিলা সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম জাতীয় শোক দিবস, ৮আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মদিবস উপরক্ষ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ২১ আগস্ট মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলার আহত ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি উপলেক্ষ্যে ২১ আগস্ট বুধবার বিকেলে সদর উপজেলা মিলনায়তনে ওই মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন লিপি ওসমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা বারী সাহেদ, সোনারগাঁ উপজেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ডালিয়া লিয়াকত, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, পরিচালক সদস্য প্রফেসর ডা. শিরিন বেগম, ইসরাত জাহান স্মৃতি, কামরুন নেসা মিতালী, ডালিয়া রহমান, নাসিক নারী কাউন্সিলর শারমীন হাবিব বিন্নী প্রমুখ।

লিপি আরো বলেন, আমরা যারা ৭৫ এর পরে বেড়ে উঠেছি আমাদেরকে সঠিক ইতিহাস জানতে দেওয়া হয় নাই। এখনো হয়তো জানতে দেওয়া হতো না। এখনো হয়তো বাঙালি জানতো না বাংলাদেশের পিছনে কার নেতৃত্ব। স্বাধীনতার পিছনে কার ডাক। বাংলাদেশের ইতিহাস যত পুরানই হোক না কেন। বঙ্গবন্ধুর জন্যই কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকরা স্বাধীন বাংলার নাগরিক হতে পেরেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর