rabbhaban

দেশ রূপান্তরের আলোচিত সংবাদ : পলাশের আস্তানায় অস্ত্র বদল!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
দেশ রূপান্তরের আলোচিত সংবাদ : পলাশের আস্তানায় অস্ত্র বদল!

সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের একটি সংবাদ বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। ওই সংবাদের একটি অংশে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের নাম রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পলাশের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটা বন্ধ পাওয়া গেছে। পবিত্র হজ পালনের জন্য তিনি সৌদিতে অবস্থান করছেন জানা গেছে। এস এম নূরুজ্জামান নামের প্রতিবেদকের সংবাদটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতার অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির কাজে। অস্ত্রের ভাগ হিসাবে মোটা অংকের টাকা ঢুকছে ওইসব অস্ত্রের মালিক নেতাদের পকেটে। স¤প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের হাতে অবৈধ অস্ত্রসহ ‘পেশাদার তিন অপরাধী’ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘পেশাদার অপরাধী’ সাইফুল ইসলাম টিটু, মতিন ওরফে মইত্যা ও হাজি আরমান হোসেনকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি রিভলবার, ২৮ রাউন্ড গুলি ও তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে চারদিনের রিমান্ড শেষে ১৫ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে তাদের কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কারাগারে যাওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদে মতিন ওরফে মইত্যা জানান, কারাবন্দি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ জানে আলমের নির্দেশনায় কেরানীগঞ্জের শুভাড্যা ইউনিয়নের যুবদল সভাপতি আরমানের দুটি রিভলবার ভাড়া নিয়েছিলেন টিটু। টিটুর মাধ্যমে ওই অস্ত্র পেয়ে তারা বিভিন্ন অপারেশনে নামেন।

আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস খুঁজতে গিয়ে কেরানীগঞ্জের একটি ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আরমানের তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এপিএস ও শুভাড্যা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, টিটু, মতিন ও আরমানের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক লীগের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির (পাগলা) সভাপতি কাওছার হোসেন পলাশের সখ্য রয়েছে। পেশাদার এই অপরাধীরা অস্ত্রের হাতবদলের জন্য তার কার্যালয় ব্যবহার করেছিল।

সিটিটিসির জিজ্ঞাসাবাদে আরমান জানান, ১২ বছর আগে দুটি পিস্তল কিনেছিলেন রাজনৈতিক কারণেই। বেশ কিছু দিন আগে তিনি যখন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তখন শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলমের সঙ্গে তার পরিচয়। সেখানে টিটুর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়। কারাগারে থাকা জানে আলমের নির্দেশেই তার ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র টিটুর কাছে সরবরাহ করেছিলেন। ভাড়া হিসেবে অস্ত্র দুটি নেওয়ার পর টিটু সেই অস্ত্র মেরে দেওয়ার পাঁয়তারা করেছিল। জানে আলমকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি ওই অস্ত্র ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন টিটুকে। এরপরই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

আর্মস এনফোর্সমেন্ট দলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক দলের পদ-পদবি ও ব্যবসার আড়ালে অনেকেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছেন। অনেকে পেশাদার অপরাধীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র দিচ্ছেন; তাদের কাছে ভাড়াও দিচ্ছেন। এমন অনেকেই পলাতক আছেন, যাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিটিটিসির তথ্যমতে, রাজধানীর অপরাধ জগতে ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রের মালিক ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ক্যাডাররা। ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই ওইসব অস্ত্রের বেশিরভাগ হাতবদল হয়ে যায়। তবে রাজনৈতিক পদ-পদবিধারী পেশাদার অপরাধীরা ওইসব অস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রেখে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েন।

তাদের মধ্যে ছাত্রদলের দক্ষিণের সভাপতি ইসহাক সরকারের অনুসারী অনেক নেতার কাছে এখনো অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে জানান সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৬ মাস আগে ইসহাক সরকারের অনুসারী ও বংশাল থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়েরের কাছ থেকে দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র দুটি তিনি পুরান ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। এছাড়া চকবাজার থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতার অবৈধ অস্ত্র এখনো ভাড়া খাটছে অপরাধ জগতে।

কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দুভাবে অবৈধ অস্ত্রের মালিক তার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করেন। কখনো মাসিক আবার কখনো কাজের চুক্তিতে ভাড়া খাটানো হয় ওইসব অস্ত্র। মাসিক চুক্তি অনুযায়ী, কোনো কাজ হোক বা না হোক, মাস শেষে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে প্রত্যেক অস্ত্রের জন্য। কাজের চুক্তি অনুযায়ী যেকোনো ছিনতাই, ডাকাতি বা লুটের ঘটনার পর সংবাদপত্রে প্রকাশিত টাকা বা সম্পদের মোট পরিমাণ জনবল, যানবাহন ও অস্ত্রভেদে ভাগ হয়। অর্থাৎ অপারেশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পাবেন একভাগ করে, মোটরসাইকেল যার তিনি পাবেন একভাগ, অস্ত্র যার তিনিও পাবেন একভাগ। এছাড়া গ্রুপ লিডারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এক ভাগ।

আর্মস এনফোর্সমেন্টের এক পরিদর্শক বলেন, গ্রুপ লিডার, অস্ত্র ও মোটরসাইকেল মালিক কোনো অপরারেশনে সরাসরি উপস্থিত থাকেন না। তাই পত্রিকায় প্রকাশিত ছিনতাই বা লুটের টাকার পরিমাণ জেনে সে অনুযায়ী তার ভাগ দাবি করে থাকেন। স¤প্রতি এই ভাগাভাগি নিয়ে গ্রুপ লিডার আলী ওরফে পাঠানের সঙ্গে তার দলের অনুসারীদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তার পাঠানের দুই অনুসারী মতিন ও টিটু।

সিটিটিসির তথ্যমতে, ২০১৫ সালে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী’ রমজান নিহত ও একই বছরে আরেক সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ‘নিখোঁজ’ হন। পরে এই দুই সন্ত্রাসীর সিন্ডিকেটের সদস্যরা সন্ত্রাসী আলী ওরফের পাঠানের দলে যোগ দেয়। বর্তমানে পাঠান ও তার অনুসারী সুন্দর আলী ও কামালসহ অন্তত ১০ জনকে খুঁজছে সিটিটিসির আর্মস এনফোর্সমেন্ট দল।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর