rabbhaban

বিতর্কে বিঁধলো স্বেচ্ছাসেবক দল : কমিটি বাণিজ্যের পর মদের ব্যবসা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
বিতর্কে বিঁধলো স্বেচ্ছাসেবক দল : কমিটি বাণিজ্যের পর মদের ব্যবসা!

নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারী মাহাবুবুর রহমানের বাড়ি থেকে মদ উদ্ধারের ঘটনায় সেখানে তোলপাড় চলছে। স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেত্রী শীলা রানী পালের ছেলে দুর্জয় পালকে ওই বাড়ি থেকে আটক ও বেশ কিছু মদ উদ্ধার করা হলেও ছাড় পেয়ে গেছেন মাহাবুব। তাঁর নিজের দাবী এ ঘটনায় তিনি জড়িত না। তিনি ওই বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এটা ভাড়াটিয়াদের কাজ।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, মাহাবুও কোনভাবে দায় এড়াতে পারেন না। তাঁর জ্ঞাতেই এ কাজটি হয়ে থাকতে পারে। কারণ মাহাবুবের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোন ঘর দুর্জয় দখল করবে সেটাও অকল্পনীয়।

র‌্যাব-১ সিপিসি-৩ পূর্বাচল ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল্যাহ আল মেহেদী সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মর্তুজাবাদ দক্ষিণ পাড়া এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের ভাড়াবাড়িতে র‌্যাব-১ এর একটি অভিযানিক দল অভিযান চালায়। এ সময় একটি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২২ বোতল বিদেশি মদ, ৪৬ ক্যান বিয়ার ও ৮ লিটার চোরাই মদ সহ দুর্জয় পালকে গ্রেপ্তার করেছেন।

তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত মাদক ব্যবসায়ী দুর্জয় দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্জয় পালের মা শীলা রানী পাল স্থানীয়ভাবে বেশ প্রভাবশালী। সদ্য অনুষ্ঠিত ঈদ উল আজহার আগে হিন্দু নারী হয়েও রূপগঞ্জে ভুলতা ইউনিয়নের কোরবানির হাটের ইজারা পেয়ে আলোচনায় আসেন শীলা রাণী পাল। তার ছেলে দুর্জয় পাল বেশ কয়েকদিন ধরেই মদ, বিয়ার ও মাদকের ব্যবসা করে আসছিল।

শনিবার সকালে দুর্জয়কে আটকে পর দেখানো মতে মাহাবুবুরের বাড়ি থেকে মদ, বিয়ার উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব-১ এর মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদী গণমাধ্যমকে দুর্জয়কে আটকের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ ব্যাপারে মাহাবুবুর রহমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘ভুলতায় তার মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে সেখানে আসা যাওয়া করতেন দুর্জয় পাল। এর মধ্যে একটি ঘরে হয়তো মদ বিয়ার রাখতো। এ ঘটনা খুব সম্ভবত ৩-৪দিন হতে পারে। কারণ বেশীদিনের হলে ভাড়াটিয়ারা অবহিত করতো। পরে শনিবার র‌্যাব ওই বাড়িতে হানা দিয়ে একটি রুম হতে মদ বিয়ার উদ্ধার করেছে জেনেছি। রাজধানীতে থাকার কারণে ওই বাড়ি সম্পর্কে তেমন খোঁজ খবরও নেওয়া হতো না।’

আর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সম্মুখীন হলো স্বেচ্ছাসেবক দল। কমিটি গঠনের পর বিভিন্ন থানা কমিটি গঠনের জন্য কারো কারো কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে দলটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। সোনারগাঁয়ে কমিটি দেওয়া হবে আশ্বাস দিলে এক নেতার কাছ থেকে দুই দফায় ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দলটির একজন নেতা। পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবী করা হয়। এছাড়া ফতুল্লার একটি কমিটির নামেও এক নেতার কাছে ৫০ হাজার টাকা চান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্ণধারদের একজন।

সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম এখনো নিজেকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করলেও অপর নেতাদের নামের বিস্তর অভিযোগ আছে। আর সে কারণেই এখনো তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর