rabbhaban

নৌকার যুদ্ধে লাঙল ছেড়ে আওয়ামীলীগে ভিড় করছেন কালাম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
নৌকার যুদ্ধে লাঙল ছেড়ে আওয়ামীলীগে ভিড় করছেন কালাম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সবশেষ বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম নৌকা লাঙল যুদ্ধে লাঙলে ভিড় করে নৌকা ডুবাতে চেয়েছিলেন। এখন পদ হারিয়ে নিজ দলের কমিটি নিয়ে লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আওয়ামী লীগের ছায়াতে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে সোনারগাঁয়ের বিতর্কিত আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সোচ্চার হয়েছেন। তবে দল পরিবর্তনের পালাবদলের কারণে দলীয় নেতাকর্মীরা তার উপর আস্থা রাখতে পারছেনা।

জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে হারাতে দলের সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন কালাম। তখন কালাম আওয়ামী লীগের হয়েও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পাটির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার বলয়ে থাকতেন। তবে কালামের অভিযোগ, সেসময় তাকে পবিত্র কোরআন ছুয়ে শপথ করানো হয়েছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারাতে।

২৪ আগস্ট এক সভায় কালাম বলেন, আমাকে সেদিন কোরআন ছুয়ে শপথ করে প্রার্থী করা হয়েছিল। ওরা বেইমান। রাজাকার স্বৈরাচার দিয়ে সোনারগা উপজেলা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চায়। সেদিন আমারও ভুল ছিলো। আর ভুল করতে চাই না। সোনারগা উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আগামী দিনে জাপা থাকবে না।

এখানে উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঘোড়া প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নৌকার প্রার্থীকে হারাতে শেষতক মাঠে থাকেন এই নেতা। তবে  নৌকার বিজয়ে সেই যাত্রা ভঙ্গ হয়। এরপর চুপসে গেলেও সম্প্রতি সোনারগাঁ থানা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিতে তাকে বাদ দেয়া হয়। যেকারণে তিনি পদ পদবী হারিয়ে আওয়ামীলীগের অন্য নেতাদের নিয়ে মাঠে নেমেছেন। সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বাদ করে নতুন করে কমিটি করার জন্য মাঠে নেমেছেন এ নেতারা।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের শোক সভায় সদ্য গঠিত উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিকে প্রত্যাখানের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত ও সাবেক সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম সহ একদল নেতারা।

বক্তারা বলেন, সদস্য ঘোষিত সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি আমরা মানি না। এ কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন তারা অনেকেই আওয়ামীলীগ করেন না। একজন মহিলাকে জাতীয় পার্টি থেকে এনে আওয়ামীলীগ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। যারা আওয়ামীলীগ করেন তারা এ মঞ্চে রয়েছেন। এ মঞ্চের কেউ আওয়ামীলীগের কমিটির বিষয়ে কেউ জানেন না।

দীর্ঘ ১০ বছর পর সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এক মঞ্চে উঠে শোক সভা করেছেন। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করার পর তাদের মধ্যে সম্প্রতি ঐক্য গড়ে উঠে।

সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একসময় কায়সার হাসনাত ও মাহফজুর রহমান কালামের দহরম মহরম সম্পর্ক থাকলেও পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক গিয়ে সাপে নেউলের সম্পর্কে গিয়ে গড়ায়। যা গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। কায়সার হাসনাতের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী চাচা মোশারফ হোসেনের সাথে কালাম প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নামেন এবং কয়েকবার সংঘর্ষেও জড়ান। কালাম মোশারফ হোসেনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারেন নি।

কিন্তু এবার সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে তারা একসুরে কথা বলতে শুরু করেছেন। গত ১৫ জুলাই জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দেন। কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। তবে এই কমিটিকে মেনে নিতে পারছেন না কালাম ও কায়সার হাসনাতের অনুসারীরা। সেই সূত্র ধরে তারা দুইজনেই কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক সেক্রেটারী কালাম সুযোগ বুঝে নিজ দলে ভিড় করেছেন। যদিও উপজেলা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন। তবে এবার নিজ দলের পদবী সহ সবকুল হারিয়ে ফের নিজ দলে ভিড় করেছেন। এতে করে দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ থাকলেও তার এই ফিরে আসাকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন। তবে এ নিয়েও অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর