rabbhaban

কোন্দলে আওয়ামী লীগে সংঘাত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
কোন্দলে আওয়ামী লীগে সংঘাত

সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে তোলপাড় চলছে। আহবায়ক কমিটি ঘোষণার শুরুতেই সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগেও দেখা দেয় বিরোধ। আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে তারা একের পর এক সভা সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। যার ধারবাহিকতায় সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সেই বিরোধ এবার সংঘাতের দিকে রূপ নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আহবায়ক কমিটির পদে থাকা নেতাদেরকে যেখানেই পাবে সেখানেই প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে নেতাকর্মীদের বহুল আলোচনা সমালোচনার মুখে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিগুলো ঘোষণা করার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই ২ নং রেলগেইট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি থানা কমিটির সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। যারা ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবু।

তবে এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাদের দাবী, এই কমিটি সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের কাউকে অবগত করা হয়নি। ফলে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে অনাস্থা জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের পদধারীদের মধ্যে মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার, সহ সভাপতি আবদুল কাদির সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৮ জন নেতা।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের এই পদক্ষেপের পর এবার সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল। যারা একসময় পরস্পরের বিরুদ্ধে থাকলেও এবার সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে সকলে একমঞ্চে এসেছেন।

গত ২৪ আগস্ট সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ১৫ আগষ্ট ও ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা নিহততের স্মরণে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শোক সভার আয়োজন করা হয়। যেখানে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন। সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ- কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহম্মেদ মোল্লা বাদশা সহ অন্যান্য নেতারা।

এর আগে ওই শোক সভা সফল করার লক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ জুড়ে চলে প্রস্তুতি। তারা বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক সভা সমাবেশ করে বেরিয়েছেন।

শোক সভায় প্রধান অতিথি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিকে প্রতিহতের আহবান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, এখন আমার জীবনে আর কোন পদ-পদবী চাওয়া পাওয়া নাই। এখন আমি সোনারগাঁয়ের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মুখে হাসি দেখতে চাই। আমি আশা করি আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে সেই নেতাকর্মীদের মুখে হাসি ফুটবে। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগকে ওরস্যালাইন আওয়ামীলীগ হতে দেয়া যাবে না। আপনারা সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ওরস্যালাইন মার্কা আওয়ামীলীগকে যেখানে পাবেন সেখানেই প্রতিহত করবেন।

তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়মী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেহেতু সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত প্রতিহতের কথা বলেছেন সেহেতু যে কোন সময় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর