rabbhaban

সারা বছর ঘুমিয়ে ভোটে জাগেন আরাফাত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
সারা বছর ঘুমিয়ে ভোটে জাগেন আরাফাত ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত ভোটা আসলেই জেগে উঠেন। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যখন মামলা নিয়ে উত্তাল তখন তিনি চুপ। অথচ ওই মামলাতে ছাত্রলীগ করা কয়েকজন নেতাকর্মীও আছেন।

সবশেষ গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর নৌকা দাবীতে শহরে শো ডাউন দেখান আরাফাত। সেদিন তিনি মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। কিন্তু ডিসেম্বরের ভোটের কিছুদিন আগেই যখন মনোনয়ন ঘোষণা দেওয়া হলো তখনই তিনি ব্যাকফুটে চলে যান। যদিও আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত দুর্ধর্ষ পলাশের সঙ্গেই দেখা গেছে কর্মসূচীতে।

সবশেষ শো ডাউনে আরাফাত বলেছিলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্লোগান দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে আসছি। নারায়ণগঞ্জে যখন আওয়ামীলীগের দু:সময় ছিল তখনও আমরা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে মিছিল করেছি। মিছিল করার কারণে আমাকে প্রধান আসামী করা হয়েছিল। আজকে আমরা যারা মিছিল করেছি তারা প্রত্যেকেই লাঞ্ছিত। আর তাই আমরা আর লাঞ্ছিত হতে চাই না। আগামী দিনে আমরা নৌকা চাই।

জানা গেছে, ছাত্র জীবনে রাজনীতিতে পদার্পণ করে জি এম আরাফাত। তৃণমূলের রাজনীতিতে তীলে তীলে গড়ে উঠেছে রাজনীতিক ক্যারিয়ার। এভাবেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পদ অর্জন করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও ছিলেন। তবে এরপর বর্তমান পদ ছাড়া অর্জনের খাতা একেবারেই শূন্য।

অন্যদিকে তার সাথেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা জাহাঙ্গীর আলম বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন। অথচ আরাফাতের রাজনীতিক ক্যারিয়ারের সহযোদ্ধারা একে একে রাজনীতিতে মেয়র এমপি হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু সেই দিক দিয়ে আরাফার অর্জনের তলানিতে রয়েছে। এমনকি এমপি হওয়ার সুযোগও পাননি এই নেতা।

সূত্র বলছে, ‘রাজনীতিক ক্যারিয়ারে প্রবীনদের তুলনায় নবীন রাজনীতিবিদরা বেশ উন্নতি করেছে। আর সেই তালিকায় আরাফতের নামও রয়েছে। তবে এ জেলায় দ্বন্দ্ব কোন্দলের রজনীতির ফলে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ অনেকটা কম। তাছাড়া এ জেলাতে কয়েকজন প্রবীন রাজনীতিবিদ রয়েছে। তবে এ জেলায় যেসব নেতারা কেন্দ্রের লবিং মেইনটেন করতে পারছে তারাই কেবল এমপি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এক্ষেত্রে তিনি বেশ পিছিয়ে আছেন।

উল্লেখ্য জিএম আরাফাত ১৯৯১ সালে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে শ্লোগানে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই তার রাজনীতি শুরু। আওয়ামী পরিবারের সন্তান প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আলম চান মুন্সীর ছেলে। ১৯৯২ সালে দেওভোগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এসএসসিতে প্রথম বিভাগে পাশ করার পর কবি নজরুল ইসলাম কলেজে লেখাপড়া শুরু করেন। ওই সময় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত সাইদুল হাসান বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম (বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক)। তাদের সাথে পুরোদমে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান তিনি। যদিও ওই সময় শহর ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেয়ার প্রক্রিয়া চললেও পরবর্তীতে বিএনপির আমলে নানা হামলা মামলা নির্যাতনের কারনে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। কারণ ১৯৯৪ সালে ৪টি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হন জিএম আরাফাত। অনেকটা আত্মগোপনে থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করেন।

১৯৯৫ সালে গ্রেফতার হলে সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সুনজরে চলে আসেন জিএম আরাফাত। ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে সেখানে কারাগারে থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন লিয়াকত আলী শিকদার ও বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু হন সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় নজরুল ইসলাম বাবুর সুদৃষ্টি আসলে জিএম আরাফাত কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পরিচিত লাভ করেন।

মূলত নজরুল ইসলাম বাবুর মাধ্যমেই তার কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ওই সময় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন আনছার আলী ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম। পরবর্তীতে সভাপতি হন নাজমা রহমান ও সাধরণ সম্পাদক শামীম ওসমান। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রথমে মিছিলটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের নিয়ে পল্টন ময়দানে জমায়েত হয় জিএম আরাফাত। যে কারণে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনজরেও চলে আসেন জিএম আরাফাত।

চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৩ সালের  ২৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় বঙ্গবন্ধ এভিনিউতে। সেই সম্মেলনে এহসানুল হাসান নিপুকে সভাপতি ও জিএম আরাফাত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ও আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা সহ জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকার কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে। যে কারনে তার ফলস্বরুপ সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিএম আরাফাতকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ওই সময় ৬৪ জেলার মধ্যে একমাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ট হন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিউনিউতে গ্রেনেড হামলার পরে নারায়ণগঞ্জ শহরে যে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় তার নেতৃত্বে ছিলেন আরাফাত। ওই সময়ে বিএনপির যুবদল নেতা ইতোমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিড বাদী হয়ে মামলা করেন যেখানে আরাফাতকে প্রধান আসামী করা হয়।

ওয়ান এলিভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিছিল বের করে জিএম আরাফাত। সেই মিছিলের ঘটনায় জিএম আরাফাতকে জরুরী আইনের বিধিতে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর