rabbhaban

তারেকেও ঘুমিয়ে বিএনপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
তারেকেও ঘুমিয়ে বিএনপি

দলীয় কর্মসূচি কিংবা দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা অথবা দলীয় প্রধানের জেল কোন কিছুতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি জেগে উঠতে পারছে না। সবকিছুতেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানী মামলা ও গ্রেপ্তারী পরোয়ানাতেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নিরবে হজম করে যাচ্ছে। দলীয় কর্মসূচি দূরের কথা, বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতেও ভুলে গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। সবমিলিয়ে একটি প্রতিক্রিয়াহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা আখ্যায়িত করায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমটির সদস্য আকরাম হোসেন বাদলের দায়ের করা মানহানি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালত ওই আদেশ দেন।

মামলায় তারেক রহমান ছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদও বিবাদী করা হয়। আদালত আবেদন গ্রহণ করে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিবাদী তিনজনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেন।

তবে এই মামলা এবং সেই সাথে গ্রেফতারী পরোয়ানা কোন কিছুতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। বরাবরের মতো এবারও তারা নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সেই সাথে তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোও কোন প্রতিক্রিয়া জানায় নি।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর শনিবার ছিল বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে সারাদেশে র‌্যালিসহ দু`দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি নিরব ছিল। ঘরের ভিতরে আবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমেই তারা সীমাবদ্ধ ছিলেন। যদিও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে ঠিকই তারা হাজিরা দিয়েছিলেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম পরিচিত স্থান হচ্ছে শহীদ জিয়া হল। আর এটির অবস্থান হচ্ছে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায়। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরে যে কেউ পা রাখার সাথে সাথেই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি ও তার নাম ফলক প্রথমেই চোখে পড়বে। সেই হিসেবে এ বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির জন্য একটি গর্বের বিষয়। কিন্তু সংরক্ষনের অভাবে বর্তমানে এটির বেহাল অবস্থা চলছে। বহুদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার সাথে সাথে এবার শহীদ জিয়া নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে সংস্কারের কথাও উঠছে।

যার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বর্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সের্লিম ওসমান বেশ শক্ত ভাষায়ও নাম পরিবর্তন ও সংস্কারের কথা বলেছেন। সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আমাদের যারা ক্ষতি করেছিল, সেখানে দেখা যায় একজনের ফটো লাগিয়ে একটা হল হয়ে পরে রয়েছে। চলেন আমার সাথে কোন মন্ত্রণালয় যেতে হবে। আমরা আর এ নাম দেখতে চাইনা। আমরা এই ফটোটা দেখতে চাইনা। আমরা এ নামটাকে পরিবর্তন করতে চাই। আমরা এটাকে একবার নাম দিয়েছিলাম টাউন হল, একবার নাম দিয়েছিলাম মুক্তিযোদ্ধা হল। যে নামই হোক। নাম না হলে দরকার নাই, টাউন হলই হবে। আমদের দায়িত্ব হবে এইটাকে ঠিক করে নেওয়া।

সেলিম ওসমানের এই বক্তব্যেকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা জোড়ালো কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। এনিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে শুধুমাত্র বিবৃতির মাধ্যমেই তারা সীমাবদ্ধ ছিলেন। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে এরকম কঠোর ভাষায় মন্তব্যের পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ জানান নি।

সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম দফা এরপর ২০১৪ সালের দশম জতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিএনপি। যদিও বিএনপি এই তিন সংসদ নির্বাচনের কোনটিই মেনে নেননি।

আর এই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দিন দিন একটি নিস্ক্রীয় সংগঠনে পরিণত হয়। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামেই তারা নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়ে তুলতে পারেন নি। পুলিশের ভয়ে প্রায় সকল কর্মসূচিই পালিত হয়ে থাকে শহরের অলি গলিতে। কোন কোন সময় সেই অলি গলির কর্মসূচিতেও তারা পুলিশের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। একই সাথে একের পর এক রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হয়ে পড়েন ঘরছাড়া।

তাদের বিরুদ্ধে আনা হয় গায়েবী ককটেল কিংবা পেট্টোল বোমা বিস্ফোরনের অভিযোগ। যেসব মামলায় আসামী হন প্রবাসী কিংবা মৃতব্যক্তিরা। আর এসব মামলায় ফেরারী আসামী হয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের দিন যাপন করতে হয়েছে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সেই মামলা হামলার মাত্র কিছুটা কমে আসলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। ফলে দলীয় ঘোষিত কর্মসূচি গুলো সেই পূর্বের মতোই পালিত হচ্ছে। তেমন একটা জোরদার হয়ে উঠছে না। সেই সাথে এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবার প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষাও হারিয়ে ফেলছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর