rabbhaban

ক্রমশ বিএনপি ছাড়ছেন কাজী মনির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
ক্রমশ বিএনপি ছাড়ছেন কাজী মনির

ক্রমশই বিএনপি ছাড়তে শুরু করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জমান। জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও জেলা বিএনপির প্রায় কর্মসূচিতেই তিনি অনুপস্থিত থাকেন। মাঝে মাঝে কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকলেও সেটা সীমিত সময়ের জন্য। যদিও কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে ঠিকই হাজিরা দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসার চেষ্টা করে থাকেন। তবে তার এই চেষ্টায় ক্ষুদ্ধ তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা কাজী মনিরুজ্জামানের এই দায়িত্বহীনতাকে মেনে নিতে পারছেন না। সেই সাথে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ধরে নিচ্ছেন, কাজী মনিরুজ্জামান ক্রমশই বিএনপি ছাড়তে শুরু করেছেন।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ জনের আংশিক কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। যেখানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান কাজী মনিরুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আর তারা নতুনভাবে দায়িত্ব পেয়ে জেলা বিএনপিকে গুছিয়ে আনতে পারেন। দলীয় কোন কর্মসূচিতেই তারা তেমন কোন জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এরপর গত ২৩ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ২০৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেন।

কিন্তু এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিয়েও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গতি ফিরানো সম্ভব হচ্ছে না। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি তারা জনদাবীতেও তেমন একটা চমক দেখাতে পারছেন না। নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে তেমন একটা সাড়া মিলছে না। সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান প্রায় কর্মসূচিতেই অনুপস্থিত থাকেন। কোন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে থাকলেও নেতাকর্মীদের বিদায় দেয়ার আগেই তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন তিনি। এমনকি দলীয় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলোও পালন করতে পারেনি। যেকারণে দলের এসব নেতাদের বিরুদ্ধে প্রায় সময় ক্ষমতাসীনদের সাথে গোপন আতাঁতের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সবশেষ ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবীতে জেলা বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। পুলিশের বাধা না থাকা সত্ত্বেও এদিনের মানববন্ধন কর্মসূচিতে পূর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান উপস্থিত হননি। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে কর্মসূচির সমাপ্তি করেন। তবে কাজী মনিরুজ্জামানের বার বার এই অনুপস্থিতি তৃণমূল নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ফতুল্লা থানার সভাপতি শাহআলম পদত্যাগ করার পর নতুন ফতুল্লা থানা কমিটিতে শাহআলম অনুগামীদের জায়গা করে দেয় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারী। এছাড়া জেলা কমিটির বাকি নেতাদের এ ব্যাপারে কোন মতামত নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম জাঁপা ঘেষা মহানগর বিএনপির বিতর্কিত নেতাদের সমর্থন করা ও নিজের নিস্ক্রিয়তার জন্য বেশ সমালোচিত হয়েছেন।

সম্প্রতি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এই বিতর্কিত নেতা কাজী মনির সহ তারই মত আরো কয়েকজন বিতর্কিত নেতাদের অনুগামীরা ঠাঁই পেয়েছে। অথচ দলের ত্যাগী নেতা ও তাদের অনুগামীদের মাইনাস করা হয়েছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর