rabbhaban

ছাত্রলীগের পর শেখ হাসিনারও পদত্যাগ জরুরি : দুদু


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
ছাত্রলীগের পর শেখ হাসিনারও পদত্যাগ জরুরি : দুদু

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে ধানে আগুন দিয়েছে। যা অতীতে কখনও বাংলাদেশে ঘটে নাই। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের কোন ন্যায্য মূল্য নাই। কিন্তু প্রতিটি উপাদানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শেখ হাসিনায় ক্ষমতায় আসার আগে যখন চালের মূল্য ছিল ১৬ টাকা তখন শেখ হাসিনা বলেছিল সে ক্ষমতায় আসলে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন কত টাকা কেজি চাল সেটা আপনারাই জানেন। শেখ হাসিনা বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরি নিশ্চয়তা করবে। কিন্তু আপনারা কি চাকরি পেয়েছেন নাকি পাননি। তিনি বলেছিলেন কৃষকের স্বার্থে হেলিকাপ্টারে চড়বেন না। হেলিকাপ্টার দিয়ে সার ঘরে ঘরে পৌছিয়ে দিবেন। তার না নাম শেখ হাসিনা।

জাতীয়বাদী কৃষক দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের সম্মেলন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে মাসদাইর মজলুম মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু শেখ হাসিনার দুর্নীতির কারণে, মাদকাসক্তের কারণে, ধর্ষণের কারণে ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিস্কার করেছেন। শেখ হাসিনা আপনার বিরুদ্ধে তো আরও বেশি অভিযোগ রয়েছে। আপনি শেয়ার বাজারের ৯৬ হাজার কোটি টাকা, গত তিন মাসে ২৮ হাজার কোটি টাকা, সেন্টাল ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক বলে শেষ করা যাবে না। সব ব্যাংকেই টাকা চুরি হয়ে গেছে। আপনার অর্থমন্ত্রী সাহেব পার্লামেন্টে বলেছিলেন, শেয়ার মার্কেটে যাদের নাম এসেছে, তাদের নাম বলা যাবে না। তারা বড় বড় লোক। টাকা আত্মসাতের কারণে যদি আপনার ছাত্র সংগঠনের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে বহিস্কার করে থাকেন তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কারণে আপনার পদত্যাগ করা উচিত। বিচারের আওতায় আনা উচিত। কিন্তু এমন এক দেশে আমরা বাস করছি যেখানে গণতন্ত্র নেই, নির্বাচন নাই সততা বলে কিছু নাই।

সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সব থেকে জনপ্রিয় নেত্রী হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, শেখ হাসিনা পদত্যাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্ডারে নির্বাচন দিলে ১০ পার্সেন্ট ভোট পাবে কিনা আওয়ামীলীগ সন্দেহ আছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। ১ লক্ষ মামলায় ২৬ থেকে ২৭ হাজার লোক আসামী। কোন দেশের বাস করি। মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছিল। গণতন্ত্র স্বাধীনতার জন্য হয়েছিল। কিন্তু আমরা স্বাধীন নাই।

ছাত্রদলের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা নির্বাচিত হবে ভোটের মাধ্যমে। তারেক রহমান যদি ভাল নির্বাচন করে তাহলে তো শেখ হাসিনার মুখ থাকে না। সেই নির্বাচন কিভাবে বন্ধ করা যায়। বিএনপি নাকি ছাত্রদলে হস্তক্ষেপ করেছে এই জন্য আদালত এই নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। মাননীয় আদালতকে যদি আমি প্রশ্ন করি, শেখ হাসিনা তো ছাত্রলীগের দুইজনকে বহিস্কার করেছে, এখন কি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন রায় দিবেন। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি রাখতে পারি।

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহবান জানিয়ে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, কিছু হবে না। রাস্তায় নেমে আন্দোলন না করলে জালিম সরকারকে হঠানো যাবে না। সবাইকে আন্দোলন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা বসে থাকতে পারিনি। ধারাবাহিকভাবে আমরাও এখন বসে থাকতে পারছি না। আমাদের নেত্রী যিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী সেনা প্রধানের স্ত্রী ৭৫ বছর বয়সের একজন নারী নানান রোগে আক্রান্ত কারাগারে আটক রয়েছেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রী কিছু হলেই লন্ডনে ছুটে যান। তাই বন্ধুরা আন্দোলন করতে হবে। আসুন রাস্তায় নামি। রাস্তায় নামলে জলিম সরকার যত বড়ই হোক না পদত্যাগ করতে হবে। তারেক এমপি ছিলেন না মন্ত্রী ছিলেন না তকে অমানুসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরাতে হবে। জিয়া পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। জালিম সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনে উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম আহবায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, সদস্য এস কে সাদেক, নাসির উদ্দিন হাজারী, রফিকুল ইসলাম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন খান, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালু, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, জেলা ওলামাদলের সভাপতি শামসুর রহমান খান বেনু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মহানগর শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন, জেলা কৃষক দলের সহ সভাপতি আবু তাহের মোল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি লিয়াকত হোসেন লিকু, রূপগঞ্জ থানা কৃষক দলের সভাপতি ডা. শাহীন, আড়াইহাজার থানা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুল হামিদ মোল্লা, সোনারগাঁ কৃষক দলের সভাপতি মনির মল্লিক, ফতুল্লা কৃষক দলের সভাপতি সিদ্দিকী দুলাল ও মুখ বধির স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ ইউসুফ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর