rabbhaban

সুসময়ে সরব দুঃসময়ে নীরব বিএনপির নেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
সুসময়ে সরব দুঃসময়ে নীরব বিএনপির নেতারা

দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাই সরব হয়েছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ফের তারা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতি থেকে উধাও হয়ে গেছেন। সেই সাথে এলাকার নেতাকর্মী সমর্থকদের সাথেও যোগাযোগ অনেকটা কমিয়ে ফেলেছেন। যার ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নারায়ণগঞ্জ আদালতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গ্রেফতারী পরোয়ানাতেও সে সকল নেতাদের পাওয়া যাচ্ছে না। আর তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন।

জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা আখ্যায়িত করায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। গত ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমটির সদস্য আকরাম হোসেন বাদলের দায়ের করা মানহানি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালত ওই আদেশ দেন।

মামলায় তারেক রহমান ছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদও বিবাদী করা হয়। আদালত আবেদন গ্রহণ করে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিবাদী তিনজনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে কারাগারে আটক রয়েছে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবীতে একের পর এক কর্মসূচি ঘোষণা করছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এসকল কর্মসূচিতে খুব কমই দেখা মিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের।

সবশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি ও সু-চিকিৎসার দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনেও তাদের দেখা মিলেনি। যদিও তারা সবসময় অজুহাত দাঁড় করান যে পুলিশের কারণে তারা কর্মসূচি পালন করতে পারেন না। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পুলিশের বাধা কিংবা মামলা ভয় কমে গেলেও তাদেরকে কোন কর্মসূচিতে দেখা মিলছে না।

সেই সাথে এবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানাতেও তাদের সরবতা লক্ষ্য করা যায়নি। পাশাপাশি তাদের সমর্থিত কর্মী সমর্থকদেরও নারায়ণগঞ্জের রাজপথে কোন কর্মসূচি পালনে দেখা যায়নি। প্রতিবারের মতো এবারও তারা সেই নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় মনোনয়নের আশা নিয়ে বেশ জোরালোভাবেই সরব হয়েছিলেন তারা। দলীয় প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই তাদের সরব ভূমিকা লক্ষ্য করা যেত।

স্থানীয় সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় সরব হয়েছিলেন কাজী মনিরুজ্জামান। নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই তার সরব ভূমিকা লক্ষ্য করা যেত। পাশাপাশি তার সমর্থিত কর্মী সমর্থকরাও এলাকায় সরব হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে তার সরবতা একেবারেই মিইয়ে গেছে।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর সরব হয়েছিলেন। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে মাহমুদুর রহমান সুমন নিয়মিত এলাকায় আসতেন এবং আতাউর রহমান আঙ্গুর দলীয় কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে তারা দুজনই এলাকা থেকে উধাও হয়ে গেছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়নের আশায় সরব হয়েছিলেন যথাক্রমে খন্দকার আবু জাফর ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। দলীয় কর্মসূচিতে তাদের সরব অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন তারা দুজনই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে প্রায় উধাও হয়ে গেছেন। দলীয় কোন কর্মসূচিতেই তাদের দেখা মিলছে না। এমনকি নারায়ণগঞ্জ আদালতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাতেও তাদের দেখা মিলছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর