rabbhaban

আওয়ামী লীগের টার্গেটে কারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
আওয়ামী লীগের টার্গেটে কারা

নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এমন বক্তব্য দিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সম্প্রতি সরগরম হয়ে উঠেছে আওয়ামীলীগ ও তৃণমূল। এর মধ্যে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সেই ষড়যন্ত্রের ইস্যুটি আরো জোরালো আকার ধারণ করেছে। তবে এর মধ্যে এমপি শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীরা ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেট করে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সুনির্দিষ্ট করো নাম বলছেননা তবে পরোক্ষভাবে অনেক কিছুর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্যে একদিকে পুলিশ প্রশাসনের কোন কোন নেতার ষড়যন্ত্র ফুটে উঠেছে। তবে পুলিশ প্রশাসনকে দিয়ে কে বা কারা এই কাজ করাচ্ছে। সেই প্রশ্নের জবাবে, বিএনপি-জামাত ছাড়াও পর্দার অন্তরালে থাকা একজনের উঠে আসছে।

৭ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে এমপি শামীম ওসমান বলেন বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটনা ঘটেছে ১নং ওয়ার্ডে। মামলার আসামী দেওয়া হলো ১ হতে ১০নং ওয়ার্ডে। ৭৫ জনের নাম উল্লেখ সহ ৪৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলো। তারা সকলেই আওয়ামী লীগের সাচ্চা কর্মী ও ব্যবসায়ী। মামলার বাদী পরে বলেছেন মামলায় তার সাক্ষর জালিয়াতি করেছেন। সেখানে সেলিম নামের পুলিশ এসব কাজ করেছেন। আসামীর তালিকা করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ হলো নারায়ণগঞ্জের গোপালগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে ডেকেছিলাম। তিনি অনেক চৌকষ পুলিশ অফিসার। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। অতি উৎসাহী পুলিশ অফিসার ষড়যন্ত্র করছে। কিছু অফিসার আছে সংখ্যায় কম নিজেরা শিবির টিবির করতো, নয়তো বাপ দাদা রাজাকার ছিল। তিনি আমাকে কথাও দিয়েছেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। আর যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা গেম করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের অনেক পুলিশ অফিসার জুনিয়র অফিসাররা অনেক নেতার বিরুদ্ধে নিউজ করতে সাংবাদিকদের কারো কারো টেক্সট করে। তাদের সাথে রাজাকার সমর্থিত পত্রিকার ভালো সম্পর্ক। টেক্সট করে বলে নিজাম, হেলাল, সাজনু, জুয়েলদের বিরুদ্ধে নিউজ করেন। আরে ওরা তো নারায়ণগঞ্জের ছেলে। আমি তো ওদের ভাই। আমি তাদের নাম বলতে চাই না। ছোটখাট অফিসার যারা ফেসবুকে স্ট্যাটাস মারো তারা বুইঝা রাখো সময় এক যায় না। এগুলো করে লাভ নাই। আমরা ছোটকাল থেকেই পুলিশ পুলিশ খেলা খেইলা অভ্যস্ত।’

শামীম ওসমান বলেন, বলেছেন, ‘এ মিশনপাড়া এলাকাতেই একটি বাড়িতে জামায়াতের কার্যালয় ছিল। এ বাড়ি থেকেই আমার ছোট বোনকে টাকা দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে দেখলাম একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জামাতের নেতা আলী আহসান মুজাহিদের স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের কার কার সম্পর্ক সেটা আছে। মুজাহিদ যখন ফাঁসির দড়ির সামনে তখন কে তার স্ত্রী পরিবারের লোকজনদের সনদ দিয়েছে। কে নামমাত্র মূল্যে আদর্শ স্কুলের জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সময় হলে আবার নৌকার জন্য কাঁদবেন সেটা আর হবে না।’

ওই সমাবেশে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে কিছু মানুষ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিন আগে দেখলাম একজন জনপ্রতিনিধি গাড়ি থেকে নেমে নিজেই হকারদের লাথি মেরে রাস্তা থেকে উঠাচ্ছে। আপনি গরিবের পেটে কেন লাথি মারেন কেন। বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন তারপর হকার উচ্ছেদ করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, অনেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে থাকেন। তারা কিভাবে আগামীতে আওয়ামীলীগের নমিনেশন পাবেন সেটা দেখা যাবে। খেলা যাবে। শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানা হবে না। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করলে বরদাশত করবো না, করা হবে না। শেখ মুজিবুর রহমান কখনও আপোষ করেন নাই, আমরাও আপোষ করবো না। 

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর