rabbhaban

বিএনপিতে সহ সাংগঠনিক সম্পাদককে বহিস্কারের চেষ্টা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
বিএনপিতে সহ সাংগঠনিক সম্পাদককে বহিস্কারের চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি দিনের পর দিন একটি নিস্ক্রিয় সংগঠনে পরিনত হচ্ছে। এর মধ্যে নেতাদের মধ্যে একে অপরকে ল্যাং মারা ও কেউ ভালো অবস্থানে থাকলে তাকে টেনে নামানোর চেষ্টা যেন দলের মধ্যে নিজেদের বিভেদকে আরো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিচ্ছে। তবে নিজেরা নিজেরা একে অপরের দোষ খোঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও কেউ দলের কারাবন্দি অসুস্থ চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শ্লোগান নিয়ে রাজপথে নামেনা বা তার জন্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোও পালন করেনা। শুধু তাই নয় এ জেলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও নেতাদের মধ্যে যেন এর কোন প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি হয়না।

অথচ দলের মধ্যে অবস্থান করা আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে খ্যাত আজাদ বিশ্বাসকে ঠিকই সাইড দিয়ে যাচ্ছেন দলের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ। এর মধ্যে কাজী মনির নিজের ব্যবসা বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সরকারদলীয় প্রভাবশালীদের সাথেও যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। আর এ জন্য তিনি নিজেও সরকারদলের বিভিন্ন এজেন্টকে দলে স্থান দিয়ে তাদেরকে খুশি রাখছেন। দলের জন্য কাজ করলেও দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারকে বহিস্কার করার একটি চেষ্টা করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। অথচ দলের ফতুল্লা থানা কমিটি একদিনের মধ্যে দালালখ্যাত আজাদ বিশ্বাসকে সভাপতি করে কমিটি দিয়ে দেয়া হয়। কমিটির পেছনে দলছুট জেলা বিএনপির পদত্যাগী সহ সভাপতি শাহ আলমের হাত রয়েছে বলেও জানা যায়। কমিটির খসড়া ও মূল কপিও এসেছে শাহ আলমের কাছ থেকে এমনটাই জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের একাধিক ঘনিষ্ঠ সুত্র।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এখন দলীয় কোন কর্মসূচী আসলেই প্রেসক্লাবের গলিতে নামসর্বস্ব ছবি তুলেই কর্মসূচী সমাপ্ত করেন। এ নিয়ে দলের মধ্যেই রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। খোদ দলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকরাই কর্মসূচীতে উপস্থিত হননা, থাকেনা তেমন নেতাকর্মীও। মূলত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপর ক্ষুব্দ হয়েই নেতাকর্মীরা কর্মসূচীতে আসেন না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও দলের বর্তমান কমিটিকে ব্যর্থ কমিটি হিসেবে প্রচার শুরু করে দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তাদের সরিয়ে নতুনদের হাতে দায়িত্ব দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এই ব্যর্থতার দায়ভারও দলের নেতাকর্মীরা নিতে চান না। মূলত দলের এই ব্যর্থতাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতা ও একগুঁয়েমিকে দায়ী করে নেতাকর্মীদের থেকে দূরে সরে গিয়ে একা একা রাজনীতি করাকেই দায়ী করছেন। কারণ দলের নেতাকর্মীদের সাথে দলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোন যোগাযোগও নেই। দলে থাকা তাদের অনুগত কয়েকজন নেতাকর্মীদের সাথেই কেবলমাত্র তারা যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন ও তাদের নিয়েই দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়েছে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে তবে কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের অনেকেই জানেন না তারা কমিটিতে আছেন কি নেই। গত ১৩ মার্চ কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে ২০৫ সদস্যের কমিটি নিয়ে দলের জেলার সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের লুকোচুরির যেন শেষ নেই। দলের পদে থাকা নেতাকর্মীদেরকেই তারা দলীয় কমিটির কাগজ দিতে চাননি এবং দেননি। শুধু তাই নয় মিডিয়াতেও এই কমিটির নামের তালিকা প্রকাশ করেননি তারা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর