rabbhaban

বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি নিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদেরকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। যা কখনই কাম্য নয়। কিন্তু সেটাই করে দেখিয়েছেন সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতারা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের ঘোষিত কমিটি নিয়ে প্রথমে ক্ষোভ দেখা গেলেও পরবর্তীতে সেটা গিয়ে মল্লযুদ্ধতে পরিণত হয়েছে। আর সেই মল্লযুদ্ধ নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। সেই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে শীর্ষ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে জামপুর ইউনিয়নের উটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। একই সময়ে বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরুর নির্দেশনায় জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন করার আয়োজন করা হয়। আর একই স্থানে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ সভা ডাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মারমুখী অবস্থানে চলে যায়। ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।

কিন্তু এ সভাকে ঘিরে সাবেক এমপি কায়সার, মাহফুজুর রহমান কালাম ও এম এইচ মাসুদ দুলাল সমর্থিত সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ লাঠিসোটা নিয়ে দিনভর অবস্থান নেন এবং বস্তল এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভায় যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। ভাঙচুর করা হয় জেলা আওয়ামী লীগরর সধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের গাড়ি। হামলায় বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের আহবায়ক হাবিবুর রহমান, জেলা প্রজন্মলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, আওয়ামীলীগ নেতা বশির মিয়াসহ ৫ জন আহত হয়।

আর এই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরবর্তীতে বিরুর বাড়িতে পুলিশ পাহাড়ায় প্রধান ফটক বন্ধ করে ঘরোয়া সম্মেলন করেন জেলার নেতারা। এদিকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা বাইরে অবস্থান করতে থাকেন। ফলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে বিরুর বাড়িতে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকতে হয়।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সূত্র বলছে, মল্লযুদ্ধের এই ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ জুড়েই বইছে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড়। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা হয়েও তাদেরকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভয়ে নির্ধারিত জায়গায় কর্মসূচি পালন করা সেই সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করাটা অবশ্যই লজ্জাজনক বিষয়। তারা যদি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণই করতে না পারেন তাহলে কিভাবে তারা নেতৃত্ব দিবেন। আর এমন কমিটিই বা দিবেন কেন যে কমিটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানবে না।

এর আগে গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবু।

এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেই সাথে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বিদ্রোহ করে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। ফলে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর