rabbhaban

আমি কারো বাসায় গেলেই হামলা মামলার শিকার হয় : আজাদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
আমি কারো বাসায় গেলেই হামলা মামলার শিকার হয় : আজাদ

চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির অনেকই সরব হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন শেষে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মনোনয়ন পাওয়া সে সকল নেতাদের নির্বাচনী এলাকায় দেখা মিলছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার সাথে তারা যোগাযোগ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে অন্য সকলের চেয়ে ব্যতিক্রম হচ্ছেন বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে প্রায় সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নের প্রত্যাশায় অনেকেই সরব হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তবে বহুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনের ফলাফলে সুবিধা করতে পারেনি নজরুল ইসলাম আজাদ। নির্বাচনী মাঠে তিনি সুবিধা না করতে পারলেও সংসদীয় এলাকা ছেড়ে যাননি নজরুল ইসলাম আজাদ।

প্রতি সপ্তাহেই দুই থেকে তিনবার নির্বাচনী এলাকায় হাজির হয়ে থাকেন বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। দুই থেকে তিনবার আসার সুযোগ না পেলেও অন্তত প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার তিনি নারায়ণগঞ্জ-২ আসন আড়াইহাজারে এসে থাকেন। এলাকার সর্বসাধারণের সাথে মিশে নানা সমস্যার সমাধান করে থাকেন তিনি। তাদের সুখ দুঃখের অংশীদার হয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নির্বাচন কি হয়েছে সেটা সকলেই জানে। এখানে কারচুপি হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপরেও নির্বাচনের ফলাফল কি হয়েছে সেটার দিকে আমি নজর দিতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি, আমার এলাকার মানুষ আমাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে। নির্বাচনে তারা আমাকে ভোটও দিয়েছে। কিন্তু কারচুপির কারণে নির্বাচনের ফলাফল আমার পক্ষে আসেনি। আমার ইচ্ছা থাকে প্রতিদিনই আমার এলাকায় আসতে। এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে। কিন্ত আমি যার বাড়িতেই যাই পরদিন তার বাড়িতেই হামলা করা হয়ে থাকে কিংবা মামলা হয়। তারপরেও সুযোগ পেলেই এলাকায় আসার চেষ্টা করে থাকি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর জন্য ভয়ের কারণ ছিলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। যার সূত্র ধরে এবার নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই নজরুল ইসলাম আজাদকে নির্বাচনী মাঠে নামতে দেননি নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থিত নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণার পর থেকে প্রায় প্রতিনিয়তই সংসদীয় এলাকার কোন না কোন জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলছিল।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রতিকের প্রার্থী দেয়া হয়েছিল বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদকে। একই সাথে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয় বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রতিক বরাদ্দের পরপরই তারা নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ সমর্থকরা। কিন্তু সেই প্রচারণায় বাবুর নেতাকর্মী সমর্থকদের কারণে নির্বাচনী মাঠে টিকতে পারছিলেন না আজাদ।

এর আগে নির্বাচনী আলাপ আলোচনার শুরুতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় নজরুল ইসলাম আজাদকে ফ্যক্টর হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। ফলে আজাদকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো হয়। ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় যুবলীগ নেতা আমজাদ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম আজাদকে প্রধান আসামী করে মামলা করা হয়েছিল। একই সাথে বিভিন্ন সময়ে দমিয়ে রাখার পচেষ্টার তার প্রায় অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হয়। আর এসকল মামলায় আজাদকে কারাবরণ করতে হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর