rabbhaban

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে রদবদল!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে রদবদল!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি পূর্ণাঙ্গ কমিটি যে কোন সময়ে ঘোষণা হওয়ার কথা জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। সেই কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে যথাযোগ্য পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে জানাগেছে। অন্যদিকে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলেও স্বাভাবিকভাবে বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয়রা ঝরে পড়বে। এতে করে মহানগর বিএনপিতে বড় ধরনের রদবদলের চিত্র দেখা যাবে খুব শিঘ্রই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির প্রত্যেকটি কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল প্রয়োজন। কারণ দলের সুবিধাবাদী ও নিষ্ক্রিয়দের জন্য রাজনীতিক চোরাবালিতে দলটি ডুবছে। এই সময় দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলেই কেবল ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। এই বিষয়কে মাথায় রেখেই দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে বড় ধরনের রদবদল করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী। এতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি আবুল কালামকে সভাপতি। বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সেক্রেটারী করে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়।

দলের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানায়, কমিটির খসড়া অনেক আগেই কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন দলের সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময় হয় দলের চলতি কমিটির নেতাদের। এতে দলের সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তার বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন এবং কয়েকটি অভিযোগও করেন।

পরে খসড়া কমিটির ২ শতাধিক নামের খসড়ার আয়তন কমিয়ে আবারো ১৭১ সদস্য করে কেন্দ্রে জমা দিতে জানানো হয় নেতাকর্মীদের। সব মিলিয়ে কমিটির খসড়াকে বিবেচনা করে চূড়ান্ত কমিটি অনুমোদন দিয়ে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে এমনটাই জানা গেছে।

নতুন কমিটিতে অনেককেই কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং তাদেরকে দলীয় সঠিক পদে পদায়ন করা হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্র জানায়। দলের বর্তমান কমিটির কয়েকজনের পদও নতুন কমিটিতে এদিক সেদিক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমান আংশিক ২৩ সদস্যের কমিটিতে সহ সভাপতি হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার, বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হাজী নূরউদ্দিন, বিলুপ্ত নগর কমিটির সহ সভাপতি জাকির হোসেন, আইনজীবী নেতা সরকার হুমায়ূন কবির, ফখরুল ইসলাম মজনু, বেগম আয়েশা আক্তার। যুগ্ম সম্পাদক ২জন হলেন আজহারুল ইসলাম বুলবুল ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজন হলেন আবদুস সবুর খান সেন্টু, ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মনিরুল ইসলাম সজল, মাহাবুবউল্লাহ তপন। কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার ও প্রচার সম্পাদক সুরুজ্জামান।

এদিকে মহানগর বিএনপিতে বিদ্রোহী, সুবিধাবাদী ও নিষ্ক্রিয় চরিত্র যেমনি রয়েছে ঠিক তেমনটি ত্যাগী অনেক নেতাও রয়েছে। তবে এর মধ্যে বিতর্কে জড়ানো ত্যাগী নেতার চরিত্রও কম নয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুল, দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, বিএনপি নেতা ও ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ মহানগর বিএনপির অনেক নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে দলের সাথে বেঈমানী করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছেন।

এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মহাসমাবেশে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীগের আগমনে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে অনেকে উপস্থিত হলেও মহানগর বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম সহ এই বিদ্রোহীরা সেখানে উপস্থিত হননি।

এরুপ অবস্থায় দ্বন্দ্বের জেরে দলের সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান পৃথক পৃথক ব্যানারে দলীয় কর্মসূীচ পালন করেও বিতর্কেত জন্ম দিয়েছেন। দলের মধ্যে বিভক্তির ফলে তার ব্যাপারেও কেন্দ্রীয় নেতাদরে কাছে নালিশ করেছে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তিনিও পাল্টা অভিযোগ করে সুবিধাবাদী ও ক্ষমতাসীনদের সাথে আতাঁতকারীদের ব্যাপারে অভিযোগ তোলেন।

সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপির কর্মকা- দেখে দেখে যেসব নেতারা দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে পদায়ীত করা হবে। আর যারা বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে তাদের পদে রদবদলের সম্ভাবনা বেশি। এতে করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর