rabbhaban

আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবান বিতর্কিতরা বেকায়দায়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
আওয়ামী লীগের ক্ষমতাবান বিতর্কিতরা বেকায়দায়

শুদ্ধি অভিযান মানেই কারো মনে স্বস্তি আর কারো মনে আতঙ্ক। তবে এই শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে বিতর্কিত নেতা ও ব্যক্তিরা বেশ আতঙ্কে রয়েছে। তবে সেসব বিতর্কিতদের শেল্টারদাতা হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা বেকায়দায় রয়েছে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে কোন বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়ানোর কোন অভিযোগ নেই। তবে বিতর্কিতদের শেল্টার দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। এতে করে সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানের ফলে ক্ষমতাসীন দলের শেল্টারদাতা নেতারা ভীষণ বেকায়দায় পড়েছেন। অন্যদিকে বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে যে কোন মুহূর্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে এই শঙ্কা দিন কাটছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা তিন মেয়াদে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার ফলে অনেক বিতর্কিত নেতা দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। আর তাতে করে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। যেকারণে শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে ক্লিন ইম্যোজ তৈরিতে কাজ করছে সরকার। এর ফলে দলের বিতর্কিতরা আতঙ্কে থাকলেও তাদের শেল্টাদাতা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা রয়েছেন বিপাকে। কারণ কান টানলে যেমন মাথা আসে ঠিক তেমনটি বিতর্কিতদের গ্রেফতার করলেও শেল্টারদাতারাও এই জালে আটকা পড়বে।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, বিতর্কিত নেতা ও ব্যক্তিবর্গের বেড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের শেল্টার। যেকারণে বিতর্কিতরা দিব্যি দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকান্ড করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। আর সেই সম্পনের ভাগ পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের শেল্টারদাতা নেতারা। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারনার বাইরে কোন কিছুই নেই। কিন্তু সরকারের গ্রীন সিগনালের জন্য তারা অপেক্ষা করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের বেশ কয়েখজন প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তাদের আয়, উপার্যনের খাত, ইনকাম ট্যাক্স প্রদান, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগের সম্পদ ও পরের সম্পদ, কার নিয়ন্ত্রণে কোন কোন সেক্টর, বাহিনীতে কারা কারা আছেন, কে কোন এলাকা নিয়ন্ত্রন করেন এর যাবতীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনের পদ বহন করছে এমন নেতাদের ব্যাপারেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে।

জানাগেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান থেকে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী সেলিম প্রধানকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ইউনিট। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জানা গেছে। সেলিম প্রধান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েমের চাচাতো ভাই।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যুবলীগ নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে রাজধানীর নিকেতনে তার কার্যালয় থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। তার কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, ১৬৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার এফডিআর, সর্টগান, মাদক, বিদেশি অর্থ জব্ধ করা হয়।

এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফকিরাপুলের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সমরাটকে গ্রেফতারের বিষয় নিয়েও নানা গুঞ্জন চলছে।

এদিকে সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ অভিযানে কে দলের কে কী বা কে আমার আত্মীয়-পরিবার এসব আমি দেখাতে চাই না। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

১৯ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। একে একে সব ধরব। সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব। জানি এগুলো কঠিন কাজ। কিন্তু করব। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা আসবে। তারপরও আমি করবই।

এদিকে নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের পদ পদবীধারী নেতারা দুর্নীতির জালে আটকা পড়ার ভয়ে নিজে কোন বিতর্কিত কাজে জড়াচ্ছেননা। তবে তাদের অনুগামীদের শেল্টার দিয়ে সেসব বিতর্কিত কাজ করিয়ে মাস শেষে মোটা অংকের ভাগ পাচ্ছেনা। তবে এই কৌশলও এখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীন কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু উপর মহলের গ্রীন সিগনালের কারণে অনেক কিছুই করা সম্ভব হচ্ছেনা। এর ফলে বিতর্কিতরা আতঙ্কে রয়েছে। অন্যদিকে তাদের শেল্টারদাতা ক্ষমতাসীনরা বেশ বেকায়দায় রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর