rabbhaban

বিএনপির জ্বলে উঠায় বাধা এখন পুলিশ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার
বিএনপির জ্বলে উঠায় বাধা এখন পুলিশ

বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামের উত্থান সব সময় বাধা বিপত্তি ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। তবে বিএনপির ক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে আসছে। এমনকি অপমান, অপদস্ত সহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তবুও জ্বলে উঠতে পারছেনা বিএনপি।

রাজনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্যাতন হতে হতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে গেছে তখনো তারা ব্যাকফুটে রয়েছে। তাদের মধ্যে জ্বলে উঠার সেই উজ্জীবনি শক্তি দেখা যাচ্ছেনা। নেতৃত্ব কিংবা সাংগঠনিক যে ব্যর্থতার কারণেই হোক তারা এখন পর্যন্ত কোন চমক দেখাতে পারছেনা। এমনকি পুলিশের ধারাবাহিক নির্যাতনেরও তারা কামব্যাক করতে পারছেনা। এর ফলে দলের ভেতরের দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর নারাণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় তারা সফল হতে পারেননি। পুলিশের এক ধমকিতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সড়ে যাননি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তিনি কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্রিফিং দিয়ে তারপর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও লড়াকু ভূমিকা পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন উপলক্ষ্যে ১৩ অক্টোবর রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হয়েছিলেন। যেখানে প্রতিবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান অনুপস্থিত ছিলেন। তবে নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্ত পুলিশ তাদেরকে দাঁড়াতেই দেয়নি।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার মধ্য দিয়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়। ওই সময় দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় মামলা, গায়েবি মামলা দিয়ে তাদেরকে জেলে প্রেরণ করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির সুবিধাবাদী নেতারা ক্ষমতাসীনদের চোখ রাঙানি ও পুলিশের কঠোরতার ফলে পিছু হটে। নেতৃত্বে থাকা সেসব নেতাদের নিষ্ক্রিয়তার ফলে দলের নেতৃত্ব শূন্য দেখা দেয়। এই শূন্যতায় দলের সাংগঠনিক অবস্থাকে আরো দুর্বল করে তোলে যার ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ইচ্ছে থাকলেও দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। সেই সুযোগে পুলিশ প্রশাসন আরো হার্ডলাইনে অবস্থান করে বিএনপির কর্মসূচিতে ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়ে আসে। এতে করে সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জের বিএনপি কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে ফ্লপ হয়। এর মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপির ভরাডুবি হয়। এর পর থেকে ক্ষমতাসীনদের চোখ রাঙানি ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোরতা কমলেও বিএনপি সেই চিরাচরিত নিষ্ক্রিয় রুপ দেখিয়ে আসছে।

দলীয় সূত্র বলছে, দলের আন্দোলন সংগ্রামে যেসব নেতাকর্মীরা বিগত কাজ করে গেছে তাদের মাইনাস করে সুবিধাবাদী ও নিষ্ক্রিয়দের দলে ভিড়ানো হয়েছে। এমনকি সেসব নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। এতে করে বিএনপির কোমড় একেবারে ভেঙে গেছে। তার উপরে দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকারীদের চিহ্নিত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে করে সেসব নেতারা এখনো রয়েছে বহাল তবিয়তে। উল্টো সেসব নেতাদের দিয়ে দলের নেতৃত্ব দেয়া হচ্ছে যার দরুণ নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় দলীয় কর্মসূচি ফ্লপ হচ্ছে। আর দলের ত্যাগী নেতারা অবমূল্যায়িত হওয়ার কারণে ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে। যেকারণে বিএনপির দুর্বলতা ও ব্যর্থতার ক্ষতে ক্ষমতাসী সহ পুলিশ প্রশাসন আরো নুনের ছিটা দিচ্ছে। এতে করে বিএনপি ভরাডুবি অনায়াসে হয়ে যাচ্ছে। যেকরণে বিএনপি কোনভাবে জ্বলে উঠতে পারছেনা। শত নির্যাতন সহ্য করেও ব্যাকফুটে রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর