rabbhaban

নিষেধাজ্ঞা আর কর্তৃত্বের মারপ্যাঁচে আটকা জেলা ছাত্রদল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার
নিষেধাজ্ঞা আর কর্তৃত্বের মারপ্যাঁচে আটকা জেলা ছাত্রদল

বিএনপির আন্দোলন সংগ্রানের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত হচ্ছে তাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। তবে এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না।

কমিটি গঠনের প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সেই আংশিক কমিটিতেই আটকে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। অথচ একই সময়ে ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি থেকে পূর্ণতায় রুপ পেয়েছে। কিন্ত এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল কর্তৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞার মারপ্যাঁচেই আটকে রয়েছে। এখন পর্র্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তাদের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ৫ জুন মশিউর রহমান রনিকে সভাপতি ও খাইরুল ইসলাম সজীবকে সাধারণ সম্পাদক করে ১২ সদস্যে বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান মিন্টু এই কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।

১২ সদস্যের কমিটিতে আরও রয়েছেন সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান অনিক, যুগ্ম সম্পাদক ইসমাঈল মামুন, মাইনুল ইসলাম রশিদ, নাজমুল হাসান বাবু, মশিউর রহমান শান্ত, রাকিব হাসান রাজ, রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্র দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সূত্র বলছে, জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিজস্ব কোন্দল ও একক আধিপত্য রাখতে গিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। নিজেরা নিজেরাই কমিটি নিয়ে একাধিকবার জড়িয়ে পড়েন দ্বন্দ্বে। এ নিয়ে কমিটির বাকি নেতারা অনেক বার চেষ্টা করেও নেতাদের এক করতে সফল হননি। কমিটি হবার এক মাসের মধ্যেই জেলার পূর্ণাঙ্গ করতে উঠেপড়ে কাজ করলেও সভাপতি রনির জন্য তা করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল।

কিছুদিন আগে জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করেই থানা নিয়ে ঝুঁকেছিলেন সভাপতি রনি। এ নিয়ে অন্যান্য পদধারী নেতাদের একত্রিত করে জেলার সাধারণ সম্পাদককেও কমিটি দিতে জোর করে তাকে নিয়ে কমিটির ব্যাপারে কাজ শুরু করেন। তবে এটিও নিছক নেতাকর্মীদের সাথে আরেকটি ছলনা, কারণ এই কমিটিও তিনি দেননি একাধিকবার সময় দিয়েও।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণার পরপরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু সে সময় নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে গিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনতে পারেনি। এরপরই কমিটি গঠনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ফলে জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তারা বেশিদূর আগাতে পারেনি।

এদিকে এগিয়ে আসে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। ফলে সকলেই কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি নিজেও প্রার্থী হন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে ফজলুর রহমান খোকন ও মো: ইকবাল হোসেন শ্যামল। তারা পদে আসার পরপরই জেলা ছাত্রদলকে নির্দেশনা দেয়া হয় কমিটি পূর্র্ণাঙ্গ করার জন্য। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যে জেলা ছাত্রদলকে পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ফের কমিটির গঠন কার্যক্রমে বিরত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর এভাবেই একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় দীর্র্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর