rabbhaban

বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকায় দায়ী নেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
বিএনপির বিরুদ্ধে পুলিশের আগ্রাসী ভূমিকায় দায়ী নেতারা

দীর্র্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামেই জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি। পুলিশের কাছে নমনীয় হয়ে তাদের কর্মসূূচি পালন করতে হয়।

সেই সূূত্র ধরে পুলিশের ইচ্ছানুযায়ী বিএনপি দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। কিন্তু পুলিশের কাছে নমনীয় হয়ে কর্মসূচি পালন করতে গিয়েও সবশেষ পুুলিশের আগ্রাসী ভূমিকার শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। যেখানে নূন্যতম সম্মান করা হয়নি বিএনপি নেতাদের। তাদের সাথে রুঢ় আচরণ করা হয়, যা সাধারণত কাম্য না। তবে পুলিশের  এই ভূমিকার পিছনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদেরকেই দায়ী করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের চুক্তিকে দেশের `স্বার্থবিরোধী` উল্লেখ করে তা বাতিল দাবি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১২ অক্টোবর ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এবং ১৩ অক্টোবর দেশের সব জেলা সদরে জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর নারাণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় তারা সফল হতে পারেননি। পুলিশের এক ধমকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যান। মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্র্যায়ের নেতাদের দিকে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে দেন পুলিশ।

একইভাবে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন উপলক্ষ্যে ১৩ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হয়েছিলেন। যেখানে প্রতিবারের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান অনুপস্থিত ছিলেন। তবে নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্ত পুলিশ তাদেরকে দাঁড়াতেই দেয়নি।

নেতাকর্মীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে পুলিশ বাহিনী। নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। ফলে তাকে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হতে হয়। একজন অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। পুলিশ তার পরনের শার্টের কলার ধরে টেনে হেচড়া করেন। যা সাধারণত কাম্য নয়।

তবে পুলিশের এই আগ্রাসী ভূূমিকার পেছনে তৃণমূূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্য হচ্ছে, পুলিশকে এই আচরণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা সবসময় পুলিশের কাছে নমনীয় হয়ে কর্মসূচি পালন করেন। পুুলিশের কাছে দুই এক মিনিটের সময় চেয়ে তারা কর্মসূচি পালন করেন। তাদের কাছে অনুুরোধ করে সময় চাইতে হবে কেন। সময় কিংবা অনুমতি চাইতে হলে পুুলিশ সুপারের কাছে চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পুলিশের কাছে সময় চেয়ে নিজের সম্মান নষ্ট করবে কেন। কর্মসূচি পালন করতে না দিলে পালন করবে না কিন্তু পুলিশের কাছে সময় চেয়ে কর্র্মসূূচি পালন করে লাভ কি। সব সময় অনুরোধ করে কর্মসুচি পালন করা হয় বলেই পুলিশ সিনিয়র নেতাদের সাথে এখন খারাপ ব্যবহার করার সুযোগ পেয়েছে। এজন্য জেলা ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতারাই দায়ী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর