rabbhaban

নারায়ণগঞ্জের দুই রাজা!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:১৩ এএম, ০৬ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
নারায়ণগঞ্জের দুই রাজা!

৫ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত ১০টায় ডিবিসি নিউজ এর সরাসরি সম্প্রচারিত নিয়মিত টকশো ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘শুদ্ধি অভিযান : ত্যাগী বনাম হাইব্রিড’।

এতে উপস্থিত ছিলেন এমপি শামীম ওসমান, রাজশাহীর আওয়ামী লীগের এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা, বিএনপির চেয়ারপার্সনের দুইজন উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক ও তৈমূর আলম খন্দকার।

শুরুতেই জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, রাজকাহন-রাজার কথা। নারায়ণগঞ্জের দুইজন রাজা এখানে আছে। তাদের নিয়ে কথা হবে।

এতে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘‘আমি কাউকে অপরাধী বলছিনা। আমরা কোনভাবেই কাউকে অপরাধী বলতে পারবোন, সে অপরাধীই। এটা কোর্ট সিদ্ধান্ত দিবে। আমি কষ্ট পাই আমি মানসিকতা কত নিচু। আমি কেন বিব্রত হব। আমি গৌরব বোধ করি। এই দলটা করি, যে দলে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা উনি যেখানে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে খবর এসেছে সেখানে আইন অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। সেখানে কে উনার আত্মীয় কে উনার আনাত্মীয় কে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে কে নাই সে বিষয়টা উনি দেখেন নাই। ক্যাসিনো নিয়ে আমরা কথা বলবো কেন ক্যাসিনো কোন দুর্নীতি না ক্যাসিনো একটা অপকর্ম। অপকর্ম আর দুর্নীতিকে কিন্তু মিলিয়ে ফেলাটা টিক হচ্ছেনা। ইটস পার্ট অফ করাপশন (এটাও দুর্নীতির অংশ)।

শামীম ওসমান বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন দুর্নীতির দায়ে। একটা সময় জিয়াউর রহমান একটা ভাঙা সুটকেস আর ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি। আজকে তারা বিশাল সম্পদের মালিক। বিদেশে তারা রাজার হালে বসবাস করেন। যে দলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুজনে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সে দলটির কতটুকু অধিকার আছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন এটা জনগণের হাতে ছেড়ে দিলাম।

নাম প্রকাশ না করে ‘বুদ্ধিজীবীদের’ সমালোচনা করে বলেন, ‘‘তারা অন্তর দিয়ে না হলেও মুখ দিয়ে হলের শুভেচ্ছ জানাতে পারতেন যে যে জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। পৃথিবীর সব দেশে দুর্নীতি হয়। কিন্তু দুর্নীতির শেষে আইনের আওতায় আনা হল কিনা সেটা হচ্ছে বিষয়।’’

সেপ্টেম্বরে এমপি শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমীরি ওসমানের বাসায় প্রশাসনের অভিযান বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শামীম ওসমান বলেন, ‘না এটা সঠিক না। এখানে হচ্ছে মিডিয়ার প্রবলেম। কে কার ভাতিজা কে কার ছেলে দ্যাটস নট এ কোশ্চেন (এটা কোন প্রশ্ন না)।

প্রশ্ন করে এমপি শামীম ওসমান বলেন, যারা আমার ভাতিজার বাসায় পুলিশ গেছে কিনা সেটার খোঁজ রাখছেন। ঢাকা শহরে ১০ বছর যাবত ক্যাসিনো চলছে এটার খোঁজ রাখছেন না।

এর উত্তরে উপস্থাপক বলেন, ‘জনাব শামীম ওসমান একবারে প্রতিবেদন ছিলনা তা কিন্তু না। বাংলাদেশ প্রতিদিন সহ আরো অনেক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে।’

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘১৯৮১ সালে এক দিনে ৪৯টা মামলা খেয়েছি। তখন আমার উকিল ছিলেন তৈমূর ভাই (অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার)। ২০ বছর বয়সে একদিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৪৯ টা কেস খেয়েছি। ১৮ বছর বয়সে জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের নৈতিকতার কিছু অবক্ষয় আছে। বিএনপি একজন নেতা আছে দলের মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন তাকে আমি রেসপেক্ট করি। কারণ উনার কাপড় খুলে গেছে কিন্তু তিনি কিন্তু স্ট্যান্ড ছিলেন। ঠিক একটি ভাবে ২১ আগস্ট যারা শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করেছেন তারেক জিয়াকে তাকে যারা রেসপেক্ট করেন আমি তাদেরকে রেসপেক্ট করিনা।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছন, “ইদানিং একটা ঘটনা ঘটছে সাকিবের ঘটনা। এটায় সাকিবকে সকলে সমর্থন করলেও আমি সমর্থন করি না। আমি ওপেন অন এয়ার বলছি। এজন্য বলছি যে নৈতিকতার কারণে তাঁকে এটা প্রকাশ করা উচিত ছিল। সে এটা করে নাই।”

তিনবার জুয়াড়িদের কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেলেও আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটকে না জানানোয় এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র তৈমূর আরো বলেন, “এখন এটা প্রমাণ হলো যে তাঁকে ছাড়াও ইন্ডিয়াতে গিয়ে জিততে পারি। অতএব ব্যক্তি কেন্দ্রীক হয়ে যাওয়া এটাকে আমি কোনো মতেই সমর্থন করি না।”

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর