ব্যক্তির রাজনীতির বাইরে মূলধারায় থাকতে আহবান কালাম ও কামালের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
ব্যক্তির রাজনীতির বাইরে মূলধারায় থাকতে আহবান কালাম ও কামালের

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ নভেম্বর সোমবার বিকাল ৩টায় কালিরবাজারস্থ দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

সভায় মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত আমরা বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন ভাবে নানা অবস্থায় থেকেও ২০০৬ থেকে ২০১৯ এই দীর্ঘ সময় আমরা রাজপথে আমাদের নেতৃবৃন্দরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে অবদান রেখেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের গাত্রদাহের কারণে আমাদের হাজার হাজার নেতৃকর্মী মামলায় জর্জরিত। অনেকেই পরিবার পরিজন থেকে বিছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। অনেকে দুস্থ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। সকলের প্রতি মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাই।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে আমরা কমিটি জমা দিয়েছিলাম। পরবর্তিতে আমাদের ২৩ জনের আংশিক কমিটি দেয়া হয়েছিল এখন আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ১৫১ জনের। এই পরিক্রমাই বলে আমাদের কিছু সামঞ্জস্যের অভাবের কারণেই কিন্তু এই দীর্ঘসূত্রিতা। যদি আমাদের সকলের সাংগঠনিক ভাবে মিল থাকতো তাহলে এই অর্জনের জন্য আমাদের এতো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না। পিছনের ইতিহাস আমরা ভুলে যেতে চাই কারণ সামনে আমাদের অনেক কঠিন পথ রয়েছে।

কালাম বলেন, ‘আজকে এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন অনেকে ২০০৬ এর পরে ব্যক্তিগত ভাবে অনেকে আমার থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। দোষে গুনে মানুষ, কাউকে কেউ সন্তুষ্ট করতে পারে না। আজকে যারা কমিটিতে আছেন তাদেরকে মনে রাখতে হবে দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে আমরা এখানে উপনীত হয়েছি। আমরা যেন আর পেছনের দিকে না যাই, আমরা যেন ব্যক্তির রাজনীতিতে উপস্থিত না হই। ব্যক্তির রাজনীতি করে আমারা কোন দিনই আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবো না। ব্যক্তির রাজনীতি করে দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করা হবে অকল্পনীয় একটি বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বিভক্ত রাজনীতি করে বিভিন্ন ব্যানারে যখন আমরা উপনীত হই তখন মিডিয়া সুযোগ পায়। তারা লেখেন উমুকের মিছিলে এতো লোক হইসে, উমুকে দাঁড়াইতে পারে নাই, উমুকে করছেন, উমুকের লোকই নাই। এই কথাগুলো কিন্তু আমরাই সৃষ্টি করে দিয়েছি এটা লিখনি বা মিডিয়ার কোন দোষ না। আমরা বিভিন্ন ব্যানারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত রাজনীতি করে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা আজকে দলকে বলিদান করে যাচ্ছি। আজকে আমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেনর, ‘আমাদের এখনই সংশোধন হতে হবে বুঝতে হবে মূলধারার বিপক্ষে যেন আমরা না যাই। ২০০৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘর ঘুরে দেখলাম। আজকে যারা এই ঘরকে একসময় অপছন্দ করতেন অনেকে আজকে এই ঘরেই আসছেন, আমি তাদের স্বাগত জানাই। ঘর চিনার জন্য আপনাদের সময় নিতে হয়, বুঝার চেষ্টা করবেন মূলধারার বাইরে গিয়ে কিন্তু কোন কাজ হবে না। মূল ধারার বাইরে গেলে দলের ক্ষতিই হবে শুধু ব্যক্তি স্বার্থ উদ্ধার হবে দলের কোন লাভ হবে না’

সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তিনি আমাদেরকে বলেছেন আপনাদের উপর যে দায়িত্ব দিলাম তা পবিত্র আমানত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন তার মুক্তির জন্য এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনাদের যে নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে সে নেতৃত্ব হবে তৃণমূল পর্যায়ের সকলের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে। আগামীতে আপনারা আপনাদের নেতৃত্ব বাছাই করে নিবেন।

এটিএম কামাল বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দেলনকে বেগবান করতে হবে। দেশনেত্রীর মুক্তির মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব। জিয়া পবিবার গণতন্ত্রের প্রতীক আজ জিয়া পরিবারকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মানেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পায়তারা। আজ দেশে নবরূপে বাকশাল কায়েম হয়েছে। দেশের জনগণ তাদের সকল মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ আজ ভোট দিতে পারে না, নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে না। যেখানে নির্বাচনের আগের রাতেই নির্বাচন হয়ে যায়। দেশের মৃত গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে তুলতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মু্িক্তর বিকল্প নেই। তাই ব্যক্তি রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে আমাদের বড় নেতা হওয়ার স্বপ্ন বাদ দিয়ে দেশকে বাঁচাতে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে, জিয়া পরিবারকে বাঁচাতে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর