শক্তিশালী হচ্ছে আওয়ামীলীগ, পিছিয়ে বিএনপি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
শক্তিশালী হচ্ছে আওয়ামীলীগ, পিছিয়ে বিএনপি

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে দলের বিতর্কিত আগাছাদের ছাঁটাই করে দলকে পরিশুদ্ধ করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দলের ভেতরে থাকা সকল ভাইরাস অপসারণ করা সম্ভব হলে নিশ্চিতভাবে আওয়ামীলীগ বেশ শক্তিশালী দলে পরিণত হবে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলের চিহ্নিত বিতর্কিতদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। এতে করে দলটি ক্রমশ দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন।

জানা গেছে, রাজনীতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ হঠাৎ করেই শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে বেশ চমক দেখিয়ে আসছেন। নিজ দলের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দলের ভেতরে থাকা বিতর্কিতদের অপসারণ করছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় প্রভাবশালীদেরও ছাড় দিচ্ছেন না। এতে করে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সারা দেশের বিতর্কিত নেতারা শুদ্ধি অভিযানের জালে আটকা পড়ছেন।

সম্প্রতি চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ে। সেই শুদ্ধি অভিযানের জালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক খালেক সহ একে একে অরো অনেক নেতাকে গ্রেফতার ও পরে বহিষ্কার করা হয়। এতে সহযোগি সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বিতর্কের জালে আটকা পড়ে। তার ধারাবাহিকতায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদে থাকা মোল্ল­া মো. আবু কাওছারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সেক্রেটারী পংকজ দেবনাথকেও সম্মেলন প্রস্তুতি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে সমালোচনার মুখে থাকা ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিতর্কিত কর্মকান্ডে নারায়ণগঞ্জের দুজন নেতাও গ্রেফতার হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ নেতা সেলিম প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি ও যুবলীগে নেতা গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এছাড়া গত ৩ অক্টোবর রাতে ফতুল্লায় দ্যা ইউনাইটেড অ্যাসোসিয়েশন ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ৭ জুয়ারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি কোনো নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। একে একে সব ধরব। সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। আমি করব। জানি এগুলো কঠিন কাজ। কিন্তু করব। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা আসবে। তারপরও আমি করবই।

দলীয় সূত্রমতে, আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। আর নভেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলন হবে। সবগুলো সংগঠনের সম্মেলনই হবে নভেম্বরে। ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন হবে। এবারের সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকেও বিতর্কিত নেতারা বাদ পড়বেন বলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ জন্য এসব সংগঠন থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন জেলা ও উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও এ প্রক্রিয়া বিস্তৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপিতে সুবিধাবাদী, বিদ্রোহী ও নিষ্ক্রিয়দের ছড়াছড়িতে দলটি ত্রাহিদশার মধ্যে দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে এগোচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে অন্ধকার কারাগারে বন্দি রয়েছে। সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জে দলীয় কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীরা ব্যর্থ হচ্ছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহ করা, দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অনুপস্থিতির মধ্য দিয়ে সুবিধাবাদী চরিত্রের বর্হিঃপ্রকাশ সহ নানা ইস্যুতে দলের ক্ষতিকারক নেতাকর্মীদের মুখোশ উন্মোচিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছেনা। উল্টো তারা বহাল তবিয়তে রয়েছে।

জানাগেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচরেন আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বন্দরে সুরুজ টাওয়ারে মহনগর বিএনপির সহ সভাপতি আতাউর রহমান মুকুলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর সহ অন্তত এক হাজার লোকজন ধানের শীষকে বয়কট করে লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিএনপি দলটির একাংশ দলের সাথে বেঈমানী করে ক্ষমতাসীন দল জাতীয় পার্টির এমপিকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামে। ওই সময়ে মুকুল আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। তখন মুকুলের পাশেই ছিলেন জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী সেলিম ওসমান। তখন মুকুল বক্তব্যে সেলিম ওসমানের কাছে ভবিষ্যতে পুলিশের হয়রানি কমানো ও মামলাগুলো দেখভালের আহবান জানান। ওই অনুষ্ঠানে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সুলতান আহম্মেদ সহ আরো কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা মূলত আবুল কালাম সমর্থিত।

সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ভোটার ও নেতাকর্মীদের বাধা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির পক্ষে বিএনপি দলটির একটি বিদ্রোহী অংশ কাজ করেছে। এর আগেও এই অংশটি সুবিধা আদায়ের জন্য নিয়তিম ক্ষমতাসীনদের সভা, সমাবেশে উপস্থিত থেকে তাদের পক্ষে কাজ করে গেছেন। এছাড়া দলের একঝাক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বেশ সমালোচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুবিধাবাদী, বিদ্রোহী ও মুখোশধারীদের চিহ্নিত করা সত্ত্বেও বিএনপি এসব নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। যেকারণে দলটি সাংগঠনিক দিক দিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো দুর্বল হয়ে পড়ছে। সে দিক দিয়ে আওয়ামীলীগ ক্রমশ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর