নির্বাচনের আগে বিতর্কে বিএনপির আইনজীবীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
নির্বাচনের আগে বিতর্কে বিএনপির আইনজীবীরা

সবকিছু ঠিককিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শুরুর দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি আছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আদালতপাড়ার রাজনীতিতে বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। যার প্রমাণ স্বরুপ বিগত কয়েক মেয়াদে আওয়ামীলীগের প্যানেল বিশাল জয় নিয়ে পদে বসেছেন। এর মধ্যে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে মারামারি হট্টগোল বেশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সেই বিশৃঙ্খলার প্রভাব নির্বাচনে বেশ ভালভাবে পড়বে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতায় থাকা শক্তিশালী আওয়ামীলীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে গিয়ে দুর্বল বিএনপিকে যখন হিমশিত খেতে হচ্ছে। তখন নতুন করে দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে আওয়ামীলীগের জয়ের পথকে আরো পরিষ্কার করে দিচ্ছে। বিএনপি মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দলের ফলে ফের জয় ছিনিয়ে নিতে আওয়ামীলীগকে বেগ পোহাতে হবেনা।

জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য ফরম নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের শার্টের কলার ধরে তাকে চড় মেরেছিলেন। এসময় ঘটনাস্থলে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীও উপস্থিত ছিলেন।

ওই দিন ফরম নিয়ে নানা টালবাহানর পর অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া সাখাওয়াতের শাটের কলার চেপে ধরেন এবং সদস্য ফরম কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। সদস্য ফরম কেড়ে নেয়ার চেষ্টাকালে সাখাওয়াতের সাথে অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি চলে। সাখাওয়াতের গালে তখন বারী ভূইয়া চষে একটি চড় মারেন। পরবর্তীতে অন্যান্য আইনজীবীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এই ঘটনার রেশ ধরে ৪ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বহিরাগতদের নিয়ে মাস্তানি করতে গিয়ে বিপক্ষের আইনজীবীদের হাতে পাল্টা মার খেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট এম এইচ আনোয়ার প্রধান।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর সাথে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া অনেকক্ষণ ধরে কথা বলছিলেন। কথা বলায় এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও মৎস্যজীবী দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী সহ বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া ও তার ছেলের উপর হামলা করেন।

অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়াকে মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক কিল ঘুষি মারতে থাকেন ও তার কোর্ট ছিড়ে ফেলেন। এসময় তার সাথে দাঁড়ানো থাকা অ্যাডভোকেট আনিসুর দিপু এগিয়ে এসে পরস্পরকে শান্ত করে ঘটনাস্থল থেকে সড়িয়ে দেন।

আইনজীবীদের সূত্র বলছে, আদালত পাড়ায় আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা একচ্ছত্র প্রভাব খাটিয়ে আসছে। কারণ তারা বিগত কয়েক মেয়াদে জয়লাভ করে আসছে। চলতি বছরের নির্বাচনের আওয়ামীলীগের পুরো প্যানেল জয়লাভ করেছে। এতে করে তাদের অবস্থান বেশ মজবুত হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরাজিত করতে বিএনপির আইনজীবীদের একত্রিত হয়ে কাজ করা কোন বিকল্প নেই। কারণ ক্ষমতার লোভে আওয়ামীলীগ একাধিক প্যানেল নিয়ে নির্বাচন করলে সেই সুযোগে বিএনপির ঐক্যবদ্ধ প্যানেল জয়ের মুখ দেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভক্তির কারণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। উল্টো তারা বিতর্কের জালে আটকা পড়ছেন।

রাজনীতিকদের মতে, বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে কয়েকটি গ্রুপ ও উপগ্রুপ আছে। এই গ্রুপের মধ্য সম্প্রতি সাখাওয়াত ও বারীর মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে নির্বাচনের আগে দুটো গ্রুপ একটি আরেকটিকে ল্যাং মারার চেষ্টায় থাকবে। আর সেই সুযোগে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা সহজে জয় পেয়ে যবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর