স্বেচ্ছাসেবকলীগে বিতর্কিতদের ঠাঁই হবে না


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
স্বেচ্ছাসেবকলীগে বিতর্কিতদের ঠাঁই হবে না

আওয়ামীলীগের সহযোগি সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বেশ জোরেসরে প্রস্তুতি চলছে। তবে বিতর্কিতদের স্বেচ্ছাসেবকলীগে আর ঠাঁই দেয়া হবেনা বলে উল্লেখ্য করেছেন দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের। এর পাশাপাশি সম্মেলন মানে নতুন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এতে করে দলের অনেক পদধারী নেতারা পদ হারাতে যাচ্ছে বলা চলে। তবে এই যোজন বিয়োজনের হিসেবে বিতর্কিতদের মাইনাস করা হচ্ছে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল বাদ পড়তে যাচ্ছেন মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারকরা দলের বিতর্কিতদের ছাঁটাই করে ক্লিন ইমেজধারীদের দলে ভেড়াচ্ছেন। সেই লক্ষ্যে দফায় দফায় নানা নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিতর্কিতরা মাইনাস হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

গত ১১ নভেম্বর রাজধানীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চাঁদাবাজরা, মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান। লুটেরা সাবধান, সন্ত্রাসীরা সাবধান। দুর্নীতিবাজরা সাবধান। এদের ঠাঁই নেই শেখ হাসিনার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগে। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না কেউ। বসন্তের কোকিলদের এনে দল ভারী করার চেষ্টা করবেন না। আমরা দুঃসময়ের কর্মী চাই, বসন্তের কোকিল চাই না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কে কত প্রভাবশালী তারচেয়েও বড় কথা হচ্ছে আমরা চাইবো ক্লিন ইমেজের কর্মীদের নেতা বানাতে। খারাপ লোক কোনো দরকার নেই। খারাপ লোকেরা দলের দুর্নাম ডেকে আনে। দুঃসময় এলে এই খারাপ লোকেদের হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এর আরেকটি অনুষ্ঠানে যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ। আর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো আপস নেই। যথাসময়ে সম্মেলন হয়। এবারও যথাসময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রবীণ-তরুণ-অভিজ্ঞদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এখানে পরিবর্তন হবে, নতুন মুখ আসবে।

জানা যায়, ওয়ান এলেভেনের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক ৫ জনসহ ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় নিজামউদ্দীনকে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ফিরোজ হোসেন, আব্দুল মতিন মন্টু, গোলাম কিবরিয়া খোকন ও শাহাজাদা প্রধান বাবুলকে। বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এদের কারও সক্রিয়তা নেই। নিজামউদ্দীনকে মাঝে মাঝে নিজ সংগঠনের বাইরে গিয়ে অন্য সংগঠনের কর্মসূচিতে একা দেখা গেলেও অন্যদের কোন খোঁজ খবর নেই। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রায় এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যারা শীর্ষ পদে রয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের তেমন একটা যোগাযোগও হয় না।

সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই ২নং রেলগেইট আওয়ামী লীগের অফিসে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভায় দলের অচলাবস্থা ফুটে উঠে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকলেও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পর্যায়ে সভাপতি নিজামউদ্দিন ও যুগ্ম আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া খোকন ছাড়া আর কোন নেতার তেমন একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। ফলশ্রুতিতে কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আরও শক্তিশালী হওয়ার আহবান জানান।

অন্যদিকে ২০১৭ সালের ২০ জুলাই শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি করা হয় মো. জুয়েল হোসেনকে যিনি বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয় সিটি করপোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধানকে। এই কমিটি গঠনের পর দলীয় কর্মসূচিতে মাঝে মাঝে সরব হতে দেখালেও তাদের অধীনে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে তেমন একটা উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দুই বছরেও অনেকবার ঘোষণা দিয়েও থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়নি।

এদিকে ১ আগস্ট গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারী সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান নিজেই ফেনসিডিল ব্যবসার কথা স্বীকার করেছেন। জেলা পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৫০ বোতল ফেন্সিডিল সহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে প্রতিবাদ লিপি দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী সাইলউদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রথম থেকেই বিতর্কিত অবস্থানে ছিল। তার জন্য পুরো দলের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এছাড়া বর্ষিয়ান নেতারা দীর্ঘদিন যাবত দলের পদ পদবীতে থাকলেও তাদের রদবদল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর