সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অনাস্থা, বহিস্কারের সুপারিশ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে অনাস্থা, বহিস্কারের সুপারিশ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্য-নির্র্বাহী কমিটির প্রথম সাধারণ সভায় মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ ও কেন্দ্রে বহিস্কার সহ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

১৬ নভেম্বর শনিবার কালিরবাজার এলাকার অস্থায়ী কার্যালয়ে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে আলাপ আলোচনার পাশাপাশি এসকল সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউছুফ খান টিপু বলেন, দল ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আজকে প্রতিহিংসার কারাগারে বন্দী। সেখানে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান না করে, শীর্ষ নেতৃবৃন্দের কাছে সমাধান না চেয়ে সরকারী দলের উস্কানিতে দলকে বিপর্যস্ত করার জন্য তারা এই মামলা দায়ের করছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি করে এবং উপদল করে যারা সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তারাই এই মামলার পিছনের কারিগর। পর্দার অন্তরালে থেকে তারা যে দুইজনকে দিয়ে মামলা করিয়েছে, সেই দুইজন জেলা কিংবা মহানগর বিএনপির কেউ না। কিন্তু তারা দাবী করেছে জেলা ও মহানগর বিএনপির পদে রয়েছে এটা ঠিক না। তারা বিএনপির কর্মী হতে পারে কিন্তু কোন পদ পদবীতে নেই। তারা মূলত অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারী, এটাই তাদের পরিচয়। কারণ সাখাওয়াত হোসেন খানের সকল মিছিল মিটিংয়ে তাদের পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি পালন করে নারায়ণগঞ্জ সহ সারাদেশে বিএনপির ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করে, যারা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে দলকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে ও সাংগঠনিকভাবে যারা আমাদের মহানগর বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরণের অসাংগঠনিক কাজকর্ম করে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে অব্যশই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। যেহেতু আমাদের প্রতিটি মিটিংয়ে তাদের আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও তারা আমাদের যেই কর্মসূচি সেই কর্র্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে না, সাংগঠনিক সভাতেও তারা আসে না। এমনকি সবশেষ বিএনপির মহাসচিব মিজা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও বয়কট করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। সেহেতু তার প্রতি আমাদের অনাস্থা প্রকাশ করা উচিত। তার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, কোন্দল সৃষ্টি এবং মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি পালন করা এবং বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনকে বিভক্ত করার পায়তারা করছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্রে আমাদের অবহিত করতে হবে। এই কমিটির পক্ষ থেকে দল থেকে বহিস্কার সহ সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে হবে।

তার এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত থাকা অন্যান্য নেতাকর্মীরা সকলেই হাত নেড়ে সম্মতি জানান। সেই সাথে অন্যান্য বক্তব্যেও এসকল কথা উঠে এসেছে। যার প্রেক্ষিতে সবাই উপস্থিত সকলের সম্মতিক্রমে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ ও বহিস্কার সহ সাংগঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কেন্দ্রী বিএনপিকে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ জাকির হোসেন, হাজী নুর উদ্দিন, আতাউর রহমান মুকুল, ফখরুল ইসলাম মজনু, যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সবুর সেন্টু, আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউছুফ খান টিপু, আবুল কাউসার আশা, দফতর সম্পাদক মোঃ ইসমাইল মিয়া, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দায়ের করেছেন বিএনপির দুইজন নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে ওই মামলার আবেদন করা হয়।

মামলার আর্জিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কর্মসূচী বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়।

গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সড়কে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন শেষে সাখাওয়াতের সঙ্গে সেলফি তোলা নিয়ে অন্য নেতাদের সঙ্গে মারামারি করেন গুলজার।

১২ নভেম্বর আদালতে শুনানী শেষে আদালত পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কেন কমিটি অবৈধ হবে না জানিয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১৩ নভেম্বর বুধবার আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ বিবাদীদের হাতে দেওয়া হয়।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মহানগর বিএনপির নেতাদের সাথে কোন কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। সবসময় তিনি দলীয় শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতির বাইরে গিয়ে মহানগর বিএনপির ব্যানারে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে থাকেন। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজ স্বার্থের জন্য নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক কমিটিতেই প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে থাকেন। ফলে কমিটির বিদ্রোহী নেতারা তার আশ্রয় পশ্রয় পেয়ে মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতেও কোন্দল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। সবকিছুতেই তিনি নাটের গুরু হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকেন।

সবশেষ গত ১৩ নভেম্বর রাজধানী ঢাকার শেরে-ই বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও দোয়া মোনাজাতের কর্মসূচি পালন করেন। যেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। আর এই কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটিতে থাকা নেতারা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আর তার সেখানে উপস্থিত না থাকা মানে দলীয় মহাসচিবকেই অবজ্ঞা করা বলে মনে করছেন তূণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর