জঙ্গী কায়দায় আইনজীবী ফোরামের সদস্য গ্রহণ সম্পন্ন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
জঙ্গী কায়দায় আইনজীবী ফোরামের সদস্য গ্রহণ সম্পন্ন

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিষিদ্ধ ঘোষিত না হলেও তাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জের সদস্য সংগ্রহ কার্র্যক্রম অনেকটা জঙ্গী সংগঠনের মতোই সম্পন্ন হয়েছে। আইনজীবী ফোরামের নেতারা গোপনীয়তার সাথে পকেটে কিংবা ফাইলের মধ্যে সদস্য ফরম নিয়ে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের চেম্বারে চেম্বারে গিয়ে সদস্য ফরম পূরণ করিয়েছেন। সদস্য ফরম পূরণ করা নিয়ে তাদের মধ্যে তেমন সরবতা লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের কর্মসূচি পালন করতে তেমন বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়নি। তারা ইচ্ছা করলেই পারতেন প্রকাশ্যে সদস্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু তাদের মধ্যে চলকমান কোন্দলের কারণে সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

জানা যায়, জেলা আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য ফরম বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হাতে ৪’শ ফরম তুলে দেন। একই সাথে তিনি বলেন, সদস্য পদ ফরম বিতরণ ও সংগ্রহের যারা দায়িত্বে আছেন তারা সবাই মিলে এসব সদস্য পদ পূরণ করে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিবেন।

কিন্তু ওই দিন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অন্যদেরকে সদস্য ফরমগুলো না দিয়ে নিজের কাছেই রেখে দেন। সবশেষ সদস্যপদ নিজের কাছে রাখার ব্যাপারে তালবাহানা শুরু করলে অন্য আইনজীবীরা ক্ষেপে গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হেসেন খানকে লাঞ্ছিত করেন। পরবর্তীতে প্রতিশোধ নেয়ার লক্ষ্যে সাখাওয়াত হেসেন খানের সমর্থিতরা আদালতপাড়া শোডাউন করলেও এদিন আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পায়নি।

কিন্তু এরপর দিন গত ৪ নভেম্বর পূর্বের শত্রুতার জের ধরে ঠিকই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। এদিন সকাল থেকেই নিজ অনুসারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান সহ অন্যান্য আইনজীবী ও বহিরাগত ক্যাডারদের জাকির খানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত পারভেজ মল্লিক সহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় শোডাউন দিতে থাকেন। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে সকলকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়ার উপর হামলা করেন। তাকে আহত করে যান জেলা আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণীর টেবিলে। সেখানে গিয়ে আব্দুল হামিদ ভাষাণীর উপর হামলা করেন। কিন্তু সেখানে মার দিতে গিয়ে তাদেরকেও পাল্টা মার খেতে হয়েছে। পরে অন্যান্য আইনজীবীদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টাপাল্টি শোডাউন দিতে থাকেন। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বহিরাগতদের নিয়ে আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। যার প্রেক্ষিতে পুরো আদালতপাড়াজুরেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়ার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিনকার জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম আর চালু হয়নি।

এদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ৫ নভেম্বর ফের অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বহিরাগতদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় প্রবেশ করেন। সারাক্ষণই তিনি বহিরাগতদের সাথে সাথে নিয়ে ঘুরেছেন। যা সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

এরপর ৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরকে মারধর করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া এদিনও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। সেই সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান শোডাউন অব্যাহত রেখেছেন। আর এসকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম থেমে থাকে। এত কিছুর পরেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সদস্য ফরম তার কাছেই রেখে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার সমঝোতা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমাঝোতা না করেই গোপনে গোপনে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেন। তিনি সহ তার সমর্থিত আইনজীবীদের দিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের চেম্বারে চেম্বারে সদস্য ফরম পূরণ করাতে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বে নিজের নিয়ন্ত্রণের প্রত্যাশায় গোপনে গোপনেই সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন।

অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণী ও অ্যাডভোকেট আজিজ আল মানুনের নেতৃত্বে অন্য একটি অংশ কেন্দ্রে অভিযোগ দিয়ে তারা আরও ২’শ সদস্য ফরম নিয়ে আসেন। তারা কিছুটা প্রকাশ্যে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালালেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে অন্য অংশটি পুরোপুরি গোপনতার সাথেই সদস্য সংগ্রহ কার্র্যক্রম চালিয়েছেন। আর এই গোপনীয়তার মধ্যে দিয়েই জঙ্গী সংগঠনের মতোই নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর