‘আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যান, তাকে ছেড়ে দেন’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
‘আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যান, তাকে ছেড়ে দেন’

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল সবসময় দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। প্রতিবারের মতো এবারও তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে একাই লড়ে গেছেন। আটককৃত এক নেতাকে মুক্ত করতে গিয়ে তিনি প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত মুক্ত না করতে পেরে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে এটিএম কামাল বলেন, আমাকে নিয়ে যান, তাকে ছেড়ে দেন।

দলীয় সূত্র জানায়, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি প্রতিবাদে ও কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে ১৮ নভেম্বর সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে নারায়য়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৮ নভেম্বর সোমবার বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটিএম কামাল মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানান।

যার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ আগে থেকেই নেতাকর্মীদেরকে সড়িয়ে দিতে থাকেন। একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল কর্মসূচিস্থলে উপস্থিত হন। আর তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। কিন্তু পুলিশ জড়ো হওয়ার আগেই সবাইকে ঘটনাস্থল থেকে সড়িয়ে নেন।

তারপরেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বক্তব্য দিচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশ অনেকটা জোড় করেই তাদেরকে কর্মসূচিস্থল থেকে দূরে সড়িয়ে নেন। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনকে টেনে হেচড়ে পুলিশের গাড়িতে উঠানোর চেষ্টা করেন। এটিএম কামালকে তাকে মুক্ত করার জন্য তিনিও পুলিশের সাথে সাথে যেতে থাকেন। ইমনকে মুক্ত করতে গিয়ে তাকেও কিছুটা হেনেস্তার শিকার হতে হয়।

তারপরেও এটিএম কামাল বলেন, ‘‘তাকে নিয়ে যাচ্ছেন কেন? তাকে ছেড়ে দেন। প্রয়োজন হলে আমাকে নিয়ে যান, তারপরেও তাকে ছেড়ে দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ইমনকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।’’

এটিএম কামাল বলেন, আমরা জনগণের দাবী নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি। কর্মসূচি পালন করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ আমাদের সেই অধিকার আদায়ে বাঁধা দিয়েছে। এসময় আমাদের সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনকে আটক এবং একজন নারী নেত্রী ডলি আহমেদকে লাঞ্ছিত করেছে পুলিশ। ইমনকে মুক্ত করার জন্য বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের চুক্তিকে দেশের `স্বার্থবিরোধী` উল্লেখ করে তা বাতিল দাবি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী ১২ অক্টোবর শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর এবং ১৩ অক্টোবর রোববার দেশের সব জেলা সদরে জনসমাবেশ করার ঘোষণা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ও তাদের সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হয়েছিলেন। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েও ছিলেন জনসমাবেশের লক্ষ্যে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি টিম।

পুলিশ এসেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাদের ধমকি দিয়ে বলেন, দুই মিনিটের মধ্যেই তাদের জনসমাবেশ শেষ করতে হবে। পুলিশের এক ধমকিতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচির সমাপ্তি করে যে যার মতো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। নেতাকর্মীদের বিশাল উপস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও কর্মসূচি পালনের নাম ফটোশেসন করে তারা চলে যান। তবে সেখানে থেকে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।

পুলিশ সময় বেধে দিলেও এটিএম কামালের ইচ্ছা ছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে কিছুক্ষণ কর্মসূচি পালন করবেন। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছায় সেটা আর হয়ে উঠেনি। ফলে এটিএম কামাল একাই কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর