শুনানীতে আসেনি মির্জা ফখরুল সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার বাদী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১২ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
শুনানীতে আসেনি মির্জা ফখরুল সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার বাদী

বিএনপির মহাসচিব সহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করে শেষ পর্যন্ত আদালতে শুনানী করতে আসেননি বাদী পক্ষের আইনজীবীরা। ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে শুনানীর কথা থাকলেও শুনানীতে অংশ নেননি মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট শ্যামল নাথ। পরবর্তীতে আদালত আগামী ১৬ জানুয়ারী শুনানীর দিন ধার্য করেন।

এসময় মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম আজাদ, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষানী, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুপ খান টিপু, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান মতিন, সহ আইন বিষয়ক সম্পদাক অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘যারা এই মামলাটি করেছে, তারা দাবী করে, তারা আমাদের দল করে। যদি তাই হতো, তাহলে এটা আমাদের দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা সাংগঠনিক বিষয়। তারা আমাদের দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কথা বলতে পারতো কিংবা আপিল করতে পারতো। আমাদের নেতাকর্মীদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারতো। প্রয়োজন তারা সাংবাদিক সম্মেলনও করতে পারতো। কিন্তু তারা সেটি না করে আমাদের মহাসচিব সহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করেছেন। অবশ্যই এটা আমাদের দলের লজ্জাজনক বিষয়। যেহেতু এটি এখন আদালতের বিচারাধীন বিষয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা আশা করি সেখানে ন্যায় বিচার পাবো।’’

অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম আজাদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বিবাদীপক্ষে আজকে আমরা ওকালতনামাযোগে আদালতে আমরা অবতীর্ণ হয়েছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আদালতে যদি বাদীপক্ষ কোন রকমের দরখাস্ত দিয়ে থাকে তাহলে ওটা শুনানী করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমরা আইনজীবী হিসেবে সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করেছি। তারা যদি কোন আপত্তি করে কিংবা দরখাস্ত করে তাহলে আমরা জয়ী হবো। আইনী লড়াইয়ে এই মামলা চলবে না, খারিজ হয়ে যাবে। আইনত এই মামলা অচল।

অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এই মামলা দাখিল অন্তে আমরা শোকজের নোটিশ পেয়েছি। সে অনুুযায়ী আমরা আদালতে আবেদন দাখিল করেছি। আমরা লিখিত জবাব দাখিল করবো। আমরা জানতে পারলাম দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারা বিধান মোতাবেক একটি অন্তবর্তীকালিন নিষেধাজ্ঞার আবেদন করতে পারেন। দেওয়ানী আইনের বিধান হচ্ছে কোন পক্ষ যদি কোন আবেদন করে অপর পক্ষকে দেখাতে হবে। সেই মোতাবেক এখনও কোন আবেদন আমাদের কাছে আসে নাই। যদি আসে আমরা আইনী লড়াইয়ে সেই পিটিশনে লিখিত আপত্তি দিব প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা নিব। এই মামলাটা আইনত গ্রহণযোগ্য না। এই মামলা খারিজ হয়ে যাবে, এটাই আইনের বিধান, আমরা এটাই আশা করি।’’

অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এই মামলার যে বাদী তার মামলা করার কোন ইখতিয়ার নেই। সে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কোন ইউনিটের কোন দায়িত্বে নাই। সে কোন বৈধ কমিটির সদস্য না। সে দলের প্রাথমিক সদস্য হতে পারে কিন্তু কোন দায়িত্বে নেই। সুতরাং তার মামলা  করার কোন ইখতিয়ার নেই। আমরা আদালতে কাছে আবেদন করবো, যেন মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।’’

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দায়ের করেছেন বিএনপির দুইজন নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে ওই মামলার আবেদন করা হয়। গত ১২ নভেম্বর আদালতে শুনানী শেষে আদালত পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কেন কমিটি অবৈধ হবে না জানিয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ১৩ নভেম্বর আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ বিবাদীদের হাতে দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর