পুলিশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
পুলিশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে এতদিন দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে একের পর এক মামলা ও পুলিশের হয়রানীর শিকার হতে হলেও এবার জনগণের সংশ্লিষ্ট দাবী নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে গিয়েও তাদের পুলিশের বাধা ও হেনেস্তার শিকার হতে হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে দলটির ভেতর থেকে।

কিন্তু একই দাবীতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের কোন বাধা কিংবা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না। তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিরূপ মন্তব্য করে গেলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশনে যাচ্ছে না। আর পুলিশের এই দ্বিমুখী ভূমিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি প্রতিবাদে ও কৃষকদের পণ্যের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে ১৮ নভেম্বর ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। গত ১৬ নভেম্বর রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে নারায়য়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ১৮ নভেম্বর বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব সংলগ্ন প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের পক্ষ থেকে সমাবেশ সফল করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠন, সকল থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠন এর সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ টিপুর পক্ষ থেকেও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে হাজির হচ্ছিলেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের উপস্থিত হওয়ার আগে থেকেই অ্যাকশনমুখী ভূমিকায় ছিলেন পুলিশ। পুলিশ তাদেরকে আগে থেকেই কর্মসূচিস্থল থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে যান। এক পর্যায়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অল্প সময়ের জন্য কর্মসূচি পালন করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেন এবং খারাপ ব্যবহার করেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল কর্মসূচির বাইরে গিয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চাইলে পুলিশ সেখানে গিয়েও বাধা দেন। পরবর্তীতে এটিএম কামাল চলে যাওয়ার মুহুর্তে এটিএম কামাল সহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে হেনেস্তা করেন পুলিশ। এসময় মহানগর বিএনপির এক নেতাকে আটক করা হয় এবং একজন নারী নেত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

একই সময়ে একই দাবীতে সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই সমাবেশে বক্তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্যেও মাধ্যমে তুলোধুনো করা হলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশনে যায়নি। তারা যতটুকু সময় ইচ্ছা হয়েছে কর্মসূচি পালন করার জন্য তারা ঠিক ততটুকু সময় ধরে কর্মসূচি পালন করেছেন। সেই সাথে অন্যান্য দিনও ঠিক একইভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিরুপ মন্তব্য করা হলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কখনও অ্যাকশনে যায়নি। সবসময় তাদের প্রতি পুলিশের নমনীয় ভাব লক্ষ্য করা গেছে।

যার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, পুলিশ হচ্ছে জনগণের বন্ধু। তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। তাদের জনগণের পক্ষেই যাওয়া উচিত। কিন্তু তারা একপক্ষকে কর্মসূচি পালন করতে দিবেন আর অন্য পক্ষকে কর্মসূচি পালন করতে দিবেন না, এটা তো হতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘আমি একজন নাগরিক হিসেবে আমার অধিকারের কথা বলতেই পারি। আমরা তো কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিষেধাগার করছি না। জনগণের দাবী নিয়ে আমরা কথা বলতেই পারি। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আইন সবার জন্যই সমান। কিন্তু পুলিশ আমাদের কর্মসূচি পালন করতে দিবে না আর অন্যদের দিবে, এটা তো হতে পারে না। পুলিশের এই দ্বিমুখী আচরণ কখনই কাম্য না। রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে আমরা কার কাছে যাবো।’’

এর আগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধায় তারা সফল হতে পারেননি। পুলিশের এক ধমকিতেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সড়ে যান। মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্র্যায়ের নেতাদের দিকে আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে দেন পুলিশ।

একইভাবে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি পালন উপলক্ষ্যে ১৩ অক্টোবর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলিতে সমবেত হয়েছিলেন। যেখানে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে পুলিশ বাহিনী। নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। ফলে তাকে পুলিশের হেনেস্তার শিকার হতে হয়। একজন অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। পুলিশ তার পরনের শার্টের কলার ধরে টেনে হেচড়া করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর