পলাশের ক্যাডার চাঁদাবাজ আজিজুল আটক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
পলাশের ক্যাডার চাঁদাবাজ আজিজুল আটক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বহুল আলোচিত পরিবহন চাঁদাবাজ আজিজুলকে আটক করেছে পুলিশ যিনি বিতর্কিত শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের পোষ্য ও ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।

৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকা থেকে আজিজুলকে আটক করা হয় নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শত (অপারেশন) সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, আজিজুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ আজিজুলের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের মোড়ে মোড়ে প্রকাশ্যে ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায় করছে আজিজুল বাহিনী ও তার দোসররা। চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলেই ইজিবাইক চালকদের চাঁদাবাজদের অফিসে ধরে নিয়ে নিমর্ম নির্যাতন চালাচ্ছে চাঁদাবাজরা।

২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কামাল নামের ইজিবাইক চালককে অফিসে ধরে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানার এক দালালের কারণে থানা পর্যান্ত পৌছাতে পারেনি চাঁদাবাজদের পিটুনিতে আহত কামাল (৩৬)।

এর আগে ইজিবাইকে চাঁদাবাজী না করলে হত্যা হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে আজিজুলও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসান বাবুও শহিদুল হক প্রমিত নামে দুই ইজিবাইক মালিক আজিজুল হকসহ তার দুই সহযোগী মামুন ও আনোয়ারের বিরুদ্ধে সম্প্রত ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেছিল।

চাঁদা নেয়ার পর চালকদের টোকেন দেয়া হচ্ছে। তাই এলাকায় এখান চাঁদাবাজদের এ টোকেন বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

ইজিবাইক চালক ও মালিকদের অভিযোগ, আজিজুল সব সময় প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত শতাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া দ্রুত বিচার আইনে চাঁদাবাজির মামলা হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ আজিজুলকে ছুতেও পারেনি। তার টোকেন গাড়িতে ব্যবহার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ সে ইজিবাইক আটক করেনা। তাই তার বিক্রি করা টোকেনকে ইজিবাইক চালক ও মালিকরা গুরুত্ব দিয়ে কিনেন।

ইজিবাইক চালক মোতালেব মিয়া জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরেই আজিজুল ইজিবাইকে চাঁদাবাজী করে আসছেন। প্রতিটি এলাকায় তার লোকজনকে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে গ্যারেজে গিয়ে মালিক-মাহজনদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করার। সে অনুয়ায়ী চাঁদা আদায় হয়। কয়েক বছর আগে ইজিবাইকের জন্য টোকেন বিক্রি হতো ৬ হাজার টাকায়। এখন সেই টোকেনের মূল্য বাড়িয়ে ২২ হাজার টাকা করা হয়েছে আর আগের টোকেন বাতিল ঘোষনা করেছে। এরমধ্যে আগে দৈনিক প্রতিটি ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে লাইন খরচ অর্থাৎ যানজট নিরসন কর্মীদের নামে প্রকাশ্যে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো।

ফতুল্লার পাগলা, কাশিপুর, বাংলাবাজার, মুসলিমসগর, ধর্মগঞ্জ, তল্লা, হাজীগঞ্জ, সাইনবোর্ড, দেলপাড়া, তক্কারমাঠ-নন্দলালপুর এলাকায় অন্তত ৫ হাজার ইজিবাইক রয়েছে।

এসবের মধ্যে ফতুল্লার পাগলা, শিবু মার্কেট ও তক্কারমাঠ এলাকায় চলাচল করা অন্তত ২ হাজার ইজিবাইক থেকে আজিজুল চাঁদাবাজী করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর