সম্মেলনকে ঘিরে সক্রিয় সদর ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
সম্মেলনকে ঘিরে সক্রিয় সদর ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামীলীগ

সারা দেশের মত নারায়ণগঞ্জেও আওয়ামীলীগ সম্মেলনের হাওয়া লেগেছে। সম্মেলনকে ঘিরে এ জেলার থানা আওয়ামীলীগ কমিটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ জেলার ৭টি থানার মধ্যে তিনটি থানা কমিটির নেতাকর্মীরা সম্মেলন নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত তিনটি থানার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মূল দলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সে হিসেবে বাকি থাকা থানা কমিটিগুলো সম্মেলন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে।

ঘুমিয়ে থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে জেলা ও মহানগরের মারপ্যাচে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ৩০ নভেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের একটি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা ও ক্লাস বাতিল করে স্কুলের মাঠ ও শ্রেণী কক্ষে ভুরিভোজের আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামলীগের এক নেতা বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী ইয়াছিন মিয়া।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা জানায়, কিছুদিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে তার পদ যেন ঠিক থাকে তাই নেতা-কর্মীদের খাওয়ানের জন্য তিনি এ অনুষ্ঠানের আয়োজ করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে ৬৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সাবেক এমপি এস এম আকরামকে আহবায়ক ও মফিজুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। এরপর তাদের নেতৃত্বে ২০০৪ সালে চার দলীয় জোট সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানায় সম্মেলনের কমিটি গঠন করা হয়। যাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে মজিবুর রহমান ও সেক্রেটারী হাজী ইয়াসিন নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গণভবনে নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটি বিলুপ্ত করে ওই কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহাকে একই পদে রেখে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করেন। ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন শেখ হাসিনা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অধীনে সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সে অনুযায়ী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ১০টি ওয়ার্ড রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের অধীনে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে দায়িত্বে থাকা সাহাবউদ্দিন মন্ডল ইন্তেকাল করেছেন। তাছাড়া সেক্রেটারী পদ নিয়ে চলছে পর্দার আড়ালে নানা খেলা। এই অবস্থায় কমিটির পদ বাগাতে নেতাকর্মীদের বাড়ছে দৌড়ঝাঁপ। প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ধর্না দেয়া হচ্ছে বারবার।

সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে প্রার্থীরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের নামে নিজেদের পক্ষে দোয়া ও আশীর্বাদ চাচ্ছেন। কৌশলে নিজেদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সভাপতি পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান শিকদার, জসিমউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল মামুন, সদর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিমউদ্দিন, গোগনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ ইবরাহীম মোল্লার নাম শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলীরটেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান সরকার, গোগনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবিএম আজহারুল ইসলাম, সওদাগর খানসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগ কার্যক্রমে নিস্ক্রিয় হলেও সম্মেলনকে ঘিরে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে ও গোপনে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

এদিকে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৭ ডিসেম্বর। আর এই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিতে নবীনরাই আসবেন নাকি প্রবীনরাই থেকে সে নিয়ে তৃণমূলে নানা আলাপ আলোচনা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এবারও প্রবীণদেরই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তৃণমূলেও প্রবীণদেরই থেকে যাওয়ার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। এ নিয়ে দুটো পক্ষই বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামীলীগের সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থনে এম. সাইফ উল্লাহ বাদল সভাপতি ও শওকত আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ার ফলে ফতুল্লা আওয়ামীলীগে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত ছাড়া ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আর কোন নেতা সক্রিয় নেই বললেই চলে।

সূত্র বলছে, সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা কেউ প্রকাশ্যে কেউ আবার আড়ালে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের আসার জন্য প্রবীনদের পাশাপাশি নবীনরাও মুখিয়ে রয়েছেন। আর তাদের এই মুখিয়ের থাকার অবসান ঘটবে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। তবে কেউ ছাড় দেয়ার পাত্র নন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর