অভিযুক্ত সাখাওয়াত পাচ্ছেন পুরস্কার!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৮ পিএম, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
অভিযুক্ত সাখাওয়াত পাচ্ছেন পুরস্কার!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে অভিযুক্ত করা হলেও তার দলীয় কর্মকান্ডে দল তাকে পুরস্কৃত করছেন। এমনটাই শোনা যাচ্ছে দলীয় বিভিন্ন মহলে, আর দলের প্রতি আনুগত্য ও দলের জন্য রাজপথে তার কর্মকান্ডেও দলীয় শীর্ষ নেতারা সন্তুষ্ট।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি, আলোচিত ৭ খুনের মামলার আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে ষড়যন্ত্রকারী উল্লেখ করে তাকে বহিষ্কারের দাবিতে মহাসচিব বরাবর আবেদন করেছে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাবেক দুই ওয়ার্ড নেতা তাদেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং সেই দুই ওয়ার্ড নেতার একজন নাকি সাখাওয়াতের অনুসারি। যাকে অনুসারি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয় তার সাথে বহিস্কার চাওয়া সভাপতি সম্পাদকেরও ছবি রয়েছে এবং তাদের সাথেও রাজনীতি করেছেন তিনি এমনটাই দাবি দলের সাখাওয়াত অনুগামীদের।

এদিকে দলের বিভিন্ন কর্মসুচীকে এককভাবে হলেও নেতাকর্মী নিয়ে বড় আকারেই পালন করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত। দলের নেতাকর্মীদের জন্য নিম্ন আদালতের আস্থার স্থল হিসেবেই পরিচিত এ সাখাওয়াত। সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের অনেক মামলাও লড়েছেন তিনি এবং এখনো লড়ছেন। নেতাকর্মীদের মামলা বিনা খরচে লড়ার কারণে নেতাকর্মীদের মনেও স্থান করে নিয়েছেন তিনি। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট সফরে পুলিশের ভয়ে কেউ যাত্রাপথে না থাকলেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সেদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে তাকে পথে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তাকে গাড়িবহরের সামনে থেকেই আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে অনেকদিন কারাগারে থাকতে হয়, এখন আইনজীবী হলেও।

৫ নভেম্বর ২০১৮ সালেও জাতীয় নির্বাচনের আগে শহরের চাষাঢ়া থেকে তাকে আটক করা হয়। আইনজীবী হলেও তিনি জামিন পাননি আদালত থেকে।

ঢাকার বিভিন্ন সভা সমাবেশেও সরব উপস্থিতি থাকে সাখাওয়াত হোসেন খান ও তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের। দলীয় সকল কর্মসূচী, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে থাকা ও জাতীয় দিবসগুলোর কর্মসূচীতেও সরব দেখা যায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে।

২৯ নভেম্বর সাখাওয়াতের বহিস্কার দাবি করে দলের সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর সাখাওয়াত হোসেন খানকে বহিষ্কারের আবেদন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।

চিঠিটি এদিন সকাল ৯ টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দুপুর ১২টায় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর হাতে পৌছে দিয়েছেন তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের মহানগরের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিক, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, কোষাধ্যক্ষ সোলায়মান সরকার ও দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল মাস্টার।

মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার জন্য সেই সাথে মূলদল সহ অঙ্গ সংগঠনের গ্রুপিং এবং দলের মহাসচিবের বিরুদ্ধে মামলা করে দলকে আইনগত ভাবে বেকায়দায় ফেলানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার কারণে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ পত্রটিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।

অভিযোগ পত্রটিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দলের সাথে আতাত করে আদালতের মাধ্যমে দলীয় কর্মকান্ড ও কর্মসূচী বন্ধ করার এবং দলকে আদালতে আইনের মার প্যাচে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ব্যহত করার ষড়যন্ত্রে থাকার যে নীল নকশা সাখাওয়াত হোসেন খান গ্রহণ করেছেন তাতে দল সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে বাধাগ্রস্থ ও মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল করার হীন চক্রান্তে মেতে উঠেছে। তাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার স্বার্থে দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যকরী কমিটির সভায় অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ বাস্তবায়ন করে সাখাওয়াত হোসেন খানকে বহিস্কারের জোর অনুরোধ করছি।

২৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ও কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে গত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তিনি দলের বর্তমান মহানগর কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি, সাবেক নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের মামলার আইনজীবী। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাকে সক্রিয় দেখা গেলেও মহানগর বিএনপির সাথে একত্রে কোন কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায়না তাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর