সেই অভিভাবকের শেষ যাত্রায়ও নেই যুবদল ছাত্রদল


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৯ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সেই অভিভাবকের শেষ যাত্রায়ও নেই যুবদল ছাত্রদল

দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রীয় থাকার পর এবার সদ্য প্রয়াত নেতাদের পাশে দাঁড়াতেও ভুলে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। সাবেক যুবদল নেতা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাযায় ও তাঁর পরিবারের সববেদনায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক। যা নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা যায়, ৪ ডিসেম্বর বুধবার বেলা ১২টায় রাজধানী ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফেরদৌস। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। তবে কেউ ভাবতেও পারেনি এ সময়েই চলে যাবেন তিনি। মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর স্ট্রোক করার একদিন আগেও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনেকের সঙ্গে দেখাও হয়েছে। কিন্তু সেটাই হবে অন্তিম সাক্ষাৎ, কথোপকথন সে খুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি কেউ। সে কারণে হারানোর বেদনা সবাইকে একটু বেশী-ই আবেগতাড়িত করেছেন। ফলে জানাযায় দল মত নির্বিশেষে সকল স্তরের জনসাধারণ উপস্থিত হয়েছিলেন।

কিন্তু জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে আবেগতাড়িত হতে পারেননি জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক সহ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেননি। আর সে কারণেই হয়তো শহীদুল ইসলাম টিটু ও গোলাম ফারুক অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও জান্নাতুল নিজেও একসময় যুবদলের নেতৃত্বে ছিল। তারপরেও তার শেষ যাত্রায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের হৃদয়ে দাগ কাটতে পারেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জান্নাতুল ফেরদৌসকে আহবায়ক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ যুবদলের অনেক নেতাকর্মীই তার হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও তার হাত ধরে যুবদলের রাজনীতি করেছেন। যা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌসের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালে মামুন মাহামুদকে সভাপতি ও আশরাফুল আলম রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে মামুন এখন জেলা বিএনপির সেক্রেটারী। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মোশারফ হোসেনকে সভাপতি, সালাউদ্দীন মোল্লাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, শাহআলম মুকুলকে সাধারণ সম্পাদক ও একরামুল কবির মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর জেলা যুবদেলর আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। জেলা যুবদলে সভাপতি করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম টিটুকে যিনি বর্তমানে ফতুল¬া থানা কমিটির সভাপতি। আর সেক্রেটারী করা হয়েছে গোলাম ফারুক খোকনকে যিনি এখন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি। যা গত ২৪ মার্চ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সাক্ষরে ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির রূপ দেয়া হয়।

তৃণমূল সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি গঠনের শুরু থেকেই বিএনপি দলীয় কর্মসূচিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না। পদে থাকা নেতাদের বেশিরভাগই থাকেন অনুপস্থিত। কোন কর্মসূচি পালন করলেও সেটা কর্মসূচি নামে ফটোসেশন হয়ে থাকে। যা নিয়ে তৃণমূলে দেখা যায় ক্ষোভ। তারা এটাকে শীর্ষ নেতাদের স্ট্যান্টবাজি হিসেবে ধরে নেন। সেই সাথে বিভিন্ন সময় কর্মসূচি পালনের নামে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন তারা।

জান্নাতুল ফেরদৌস-বিএনপির পোড় খাওয়া নেতাদের একজন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নির্দেশে দলে ভেড়া এ নেতা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্রদল, যুবদল ও সবশেষ বিএনপিতে। শেষদিকে হয়ে উঠেন বিএনপির নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধেয়। বিএনপি করলেও সকল রাজনীতিকদের সঙ্গে ছিল সু সম্পর্ক। জীবদ্দশায় সেটা বাহ্যিক ফুটে না উঠলেও মৃত্যুর পর এসেছিলেন সকলে। জানিয়েছেন শ্রদ্ধা, শোকাহত পরিবেশে ঝেরেছেন চোখের নোনা জল। হৃদয়ের গহীন থেকে ফেলেছেন বেদনা ও আক্ষেপের ভারী নিঃশ্বাস। কেউ ভাবতেও পারেনি এ সময়েই চলে যাবেন তিনি। মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর স্ট্রোক করার একদিন আগেও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। অনেকের সঙ্গে দেখাও হয়েছে। কিন্তু সেটাই হবে অন্তিম সাক্ষাৎ, কথোপকথন সে খুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি কেউ। সে কারণে হারানোর বেদনা সবাইকে একটু বেশী-ই আবেগতাড়িত করেছেন।

বিএনপি করলেও শেষ যাত্রায় সকলের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছেন রাজনীতির ঊর্ধ্বেই সকলের সঙ্গে ছিলেন তিনি, অনেকের আপনজন, কারো অনুজ, কারো অগ্রজ। শেষ বিদায়ে শোকের মোহনায় এক ছিলেন সবাই।

তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস।

জানাযায় উপস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শওকত হাসেম শকু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সহ সভাপতি কবির হোসনে, সাবেক সভাপতি রাশেদ সারোয়ার, বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার, সাখাওয়াত হোসেন বাচ্চু।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর