শামীম ওসমান অনুগামীদের বিরুদ্ধে আইভী পন্থীদের মামলায় ফের উত্তাপ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
শামীম ওসমান অনুগামীদের বিরুদ্ধে আইভী পন্থীদের মামলায় ফের উত্তাপ

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী হকার ইস্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে সংঘর্ষের পরের কয়েকদিন ছিল নিস্তবদ্ধতা। মূলত এর পরেই ঘনিয়ে আসতে থাকে সংসদ নির্বাচন। ওই বছরের ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের পরে নারায়ণগঞ্জ অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু গত ৪ ডিসেম্বর একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আবারো ফুঁটে উঠতে শুরু করেছে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যে সেই পুরানো দ্বৈরথ বিরোধ।

নানা কারণে এ দুইজনের মধ্যে পূর্বকার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ নিয়ে ঘটেছে অনেক ঘটনা। পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও আসে উভয়ের কাছ হতে। কিন্তু হকার ইস্যুর পর অনেক কিছুই স্তিমিত হয়ে যায়। বদলে যেতে থাকে নারায়ণগঞ্জের দৃশ্যপট। গত দেড় বছর ধরে দুইজন তথা শামীম ওসমান ও আইভীর কণ্ঠে আগের মত তীব্র বিরোধীতার বক্তব্য আসেনি। যদিও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে আইভী, মন্ত্রী গাজী ও এমপি বাবু সহ ৩৮ জন কেন্দ্রে একটি চিঠি দিয়ে কমিটির বিরোধীতা করেছিলেন। বিপরীতে সোনারগাঁয়ের কমিটিতে নৈতিক পরোক্ষ সমর্থন ছিল শামীম ওসমানের।

এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জিএম এ সাত্তার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জর একটি আদালতে ওই মামলার আবেদন করেন। ৪ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফাহমিদা খাতুনের আদালত ওই আর্জি গ্রহণ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ। তারা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে রাজনীতি করেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, বিবাদীরা সকলেই এমপি শামীম ওসমানের ইন্ধনে ও প্ররোচনায় উক্ত ঘটনা ঘটায়। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ফুটপাতে হকার বসানোর কথা বলে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণেই বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবেই মেয়র আইভীর শান্তির মিছিলে ভয়াবহ হামলা করে। কারণ ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে এ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে মেয়রের একাধিকবার কথা হয়। এমপি সেলিম ওসমান এ বিষয়ে পত্র দিলে সেটারও জবাব দেওয়া হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী যানজট নিরসন ও জনগনের হাটাচলার জন্য ফুটপাত অবাধ রাখতেই সচেষ্ট ছিল সিটি করপোরেশন। কিন্তু নির্বাচনী এলাকা এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার বসবে মর্মে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের লাগাতার ঘোষণা, হুমকি, প্রশ্রয় ছিল বিবাদীদের জন্য উস্কানিমূলক। এ কারণেই বিবাদীরা ওই ঘটনার সাহস পায়।

হকার ইস্যুর পরে আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জের ঘটনা যতটা না রাজনৈতিক তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত। শামীম এবং আইভী দুজনই জনপ্রিয়। নারায়ণগঞ্জে এরা আওয়ামী লীগের দুই হাত। একজনকে কাটলে আওয়ামী লীগই পঙ্গু হয়ে যাবে। দুজনেই নারায়ণগঞ্জে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। বিরোধের সূত্রপাত এখানেই।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর