বাবা ছেলের বিতর্কিত কমিটি আড়ালে সাখাওয়াত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
বাবা ছেলের বিতর্কিত কমিটি আড়ালে সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বিতর্কিত কমিটির সমালোচনা এড়াতে এবং দলের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিতেই সাখাওয়াত `ড্রামা` (নাটক) মঞ্চস্থ করেছে দলের সভাপতি আবুল কালাম। নিজ বাসায় অবস্থিত দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে সভা ডেকে অনুগত নেতাকর্মীদের দিয়ে সভায় সাখাওয়াতের বহিষ্কারের আওয়াজ তোলেন তিনি আর তাতেই আলোচনা রটে যায়, বদলে যায় কমিটি নিয়ে বিতর্কের দৃশ্যপট।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কামাল ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল কমিটিতে নাম প্রস্তাব করার পাশাপাশি এতে দলের সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও কয়েকটি নাম প্রস্তাব করেন। পরে এ নামগুলো তালিকা থেকে কর্তন করা হয়। দলের জন্য যারা কাজ করে এমন লোকদের পাশাপাশি অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা নেতাদেরকেও মহানগর বিএনপির মূলদলের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। বাবা আবুল কালাম কমিটির সভাপতি হলেও এখানে ছেলে আবুল কাউসার আশাকে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক। অথচ আবুল কাউসার আশাকে রয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিসেবে। তার এ পদে দলের অন্য কোন সক্রিয় নেতাকে দেয়া হলে দুজন নেতা দুটি পদ পেতেন। এমন অনেক অসঙ্গতিই রয়েছে মহানগর বিএনপির কমিটিতে যা নিয়ে দলের মধ্যেই শুরু হয় অভ্যন্তরীন বিতর্ক। সেই বিতর্ককে আড়াল করতেই সাখাওয়াত ড্রামা মঞ্চস্থ করা হয় বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

গত ৩০ অক্টোবর মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটির সভাপতি আবুল কালামকে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালকে দায়িত্ব দিয়ে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

২৯ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি, আলোচিত ৭ খুনের মামলার আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে ষড়যন্ত্রকারী উল্লেখ করে তাকে বহিষ্কারের দাবিতে মহাসচিব বরাবর আবেদন করেছে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাবেক দুই ওয়ার্ড নেতা তাদেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং সেই দুই ওয়ার্ড নেতার একজন নাকি সাখাওয়াতের অনুসারি। যাকে অনুসারি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয় তার সাথে বহিস্কার চাওয়া সভাপতি সম্পাদকেরও ছবি রয়েছে এবং তাদের সাথেও রাজনীতি করেছেন তিনি এমনটাই দাবি দলের সাখাওয়াত অনুগামীদের।

এদিকে দলের বিভিন্ন কর্মসুচীকে এককভাবে হলেও নেতাকর্মী নিয়ে বড় আকারেই পালন করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত। দলের নেতাকর্মীদের জন্য নিম্ন আদালতের আস্থার স্থল হিসেবেই পরিচিত এ সাখাওয়াত। সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের অনেক মামলাও লড়েছেন তিনি এবং এখনো লড়ছেন। ৫ নভেম্বর ২০১৮ সালেও জাতীয় নির্বাচনের আগে শহরের চাষাঢ়া থেকে তাকে আটক করা হয়। আইনজীবী হলেও তিনি জামিন পাননি আদালত থেকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর