শামীম ওসমান গুনাবলীকে সত্যভাবে উপস্থাপনে ব্যর্থ : কাদির


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
শামীম ওসমান গুনাবলীকে সত্যভাবে উপস্থাপনে ব্যর্থ : কাদির

নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী। ওই ঘটনার পর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পক্ষে ও অস্ত্র উচানো যুবলীগ নেতা নিয়াজুল কারো মামলা থানা গ্রহণ করেনি। ২২ মাস পর গত ৫ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে সদর মডেল থানায় মামলা রুজু হয়। এ অবস্থায় ৭ ডিসেম্বর এমপি শামীম ওসমান ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে মেয়র আইভীকে নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা থেকে শুরু করে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রেরও অভিযোগ তুলেন।

এর প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এখানে মামলা করা হয়েছে, এই মামলা তারা নানাভাবে আটকিয়ে রাখছিল। এই মামলা হাইকোর্টে সুপারিশের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সবাই মিলিতভাবে মামলাটাকে আটকিয়ে রেখেছিল। এটা যা হয় আইনের মাধ্যমে হবে। আমি মনে করি, অতি দ্রুত এটার বিচার হোক। অন্যায় করে থাকলে অন্যায়ের শাস্তি হবে।

৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সিটি করপোরেশনের মামলাটি রেকর্ড হয়। এর আগেরদিন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত মামলা রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ১ হাজার জনকে আসামী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা, জখম, নাশকতা, ভাঙচুর সহ অরাজকতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন ও চঞ্চল মাহমুদ।

কাদির বলেন, জামায়াতের সম্পৃক্ততার কথা যে বলে তার (শামীম ওসমানের) সাথে জামায়াতের সখ্য অনেক। বিগত দিনগুলোতে হেফাজতে ইসলামের মানুষ দিয়ে সে মিছিল মিটিং বৈঠক করেছে। কোর্ট থেকে বের করে জামায়াতে ইসলামের লোকের সাথে কথা হয়েছে, এগুলো আমরা পত্রিকার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই। মিথ্যা ছলনা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশকে নষ্ট করার কাজে শামীম ওসমান জড়িত। মিথ্যার মধ্যে তিনি ডুবে থাকেন। এখন আর কথা খায় না। একদিন মিথ্যা মিথ্যায় তার জীবনটা রচিত হবে।

কাদির শামীম ওসমান প্রসঙ্গে আরো বলেন, তিনি তো প্রত্যেকটা কথার মধ্যে ধরা খেয়ে যান। বিএনপি জামায়াত, জাতীয় পার্টির লোকজন যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করছে তারা তার কমিটির মধ্যে রয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় যেসব নির্বাচন হচ্ছে, সবগুলোতেই স্বাধীনতা বিপক্ষের শক্তিকে পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও রাইফেল ক্লাব সহ অনেক জায়গায় জামায়াত শিবিরের লোকদের কমিটিতে আনছে। তারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। ভালো লোকের মূল্যায়ন নাই। মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। শামীম ওসমান একজন রাজনৈতিক বিচক্ষণ ব্যক্তি। তার প্রপাগান্ডার কারণেই সে জাতীয় নেতা হতে পারে না। মিথ্যা ও আর জামায়াত শিবিরের লোকদের নিয়ে কাজ করে অন্যের উপর দোষ চাপাতে চায়। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও আইভীর বিপক্ষের প্রার্থী সাখাওয়াতকে টাকা দিয়েছে। শামীমরা আওয়ামী লীগকে কিভাবে ধ্বংস করবে সেটা নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকে। শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের মধ্যে জাতীয় নেতা হিসেবে পদ পাইতেন। তার দুইটা কারণেই নিজকে নারায়ণগঞ্জের গন্ডির মধ্যে রেখে দিছে। একটি হলো সে বেশি মিথ্যা কথা বলে।

আরেকটি হলো, সে মনে করে আমিই নারায়ণগঞ্জে থাকবো, আর কেউ থাকবে না। এই দুই কারণেই তার অবস্থান তুলে ধরতে পারেন না। তিনি সবসময় তার প্রতিপক্ষ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তার গুণাবলী ছিল সে গুণাবলি সত্যভাবে উপস্থাপন করতে পারলে সে জাতীয় নেতা হতে পারতো।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মোস্তাকের প্রেতাত্মা আমাদের উপর ভর করছে নাকি তাদের উপর ভরছে এটা নারায়ণগঞ্জ জানে। কাদের সঙ্গে বিএনপির জামায়াতের কানেকসন, কারা বিএনপি জামায়াত প্রতিষ্ঠিত করছে এটা নারায়ণগঞ্জবাসী ভাল করেই জানে। ১৬ জানুযায়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা সম্পর্কে আমি কোন মন্তব্য করতে রাজী না। যিনি মামলা করেছেন তিনিই ভাল জানেন। আমি নিজে ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর