ছবি তুলেই পালালো যুবদল নেতারা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
ছবি তুলেই পালালো যুবদল নেতারা

বিএনপির ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রিয় ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। আর সেই নিস্ক্রিয় থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের গতি ফিরাতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই নতুন কমিটি দিয়েও জেলা যুবদলের গতি ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। তারা সেই পূর্বের ধারাবাহিকতা এখনও ধরে রেখেছেন। কমিটি গঠনের শুরু থেকেই বিএনপি দলীয় কর্মসূচিতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না। প্রায় সময়ই তারা কর্মসূচি পালনের ফটোশেসন করে থাকেন।

সবশেষ ১৪ ডিসেম্বর শনিবার সকালেও তারা কর্মসূচি পালনের নামে ফটোশেসন করেছে। কর্মসূচি পালনের নামে কোন রকম ছবি তুলেই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।

জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় যুবদল। আর সেই কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে ১৪ ডিসেম্বর শনিবার সকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। তবে তাদের এই কর্মসূচি নামমাত্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতারা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের গলি থেকে খুব দ্রুত মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া পেট্রোল পাম্পের সামনে আসেন। এরপর সেখানে দুই এক মিনিটের সমাবেশ করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি কোন রকম বক্তৃতা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যদিও সেখানে পুলিশের কোন উপস্থিতি ছিল না।

সভাপতির বক্তব্যে শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তাঁকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে আমরা লাগাতার হরতাল চাই। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছি। বর্তমান সরকার মিথ্যা মামলায় দিনের পর দিন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। দেশের জনগণ এটা কখনই মেনে নিবে না।’

তবে তার এই বক্তব্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বাস্তবতার কোন মিল পাননি। তাদের ভাষ্যমতে, সভাপতি বলেছেন আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। কিন্তু কর্মসূচি পালনের নামে ফটোসেশন করে কিভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। এদিন তো পুলিশের কোন বাধা ছিল না। তারপরেও কেন কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হলো। সুতরাং কমিটির শীর্ষ পদে এসব স্ট্যান্টবাজি নেতাকর্মীদের ধোঁকা দেয়া ঠিক না।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ কয়েক যুগ পর জেলা যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ৫ মাস পরই জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যা এর আগে কখনও এত অল্প সময়ের মধ্যে কমিটির ঘোষণা হয়নি।

তবে এই কমিটি ঘোষণার শুরুতেই বিতর্ক দেখা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলে। জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে পদ বিক্রির অভিযোগ উঠে। এতদিন পর জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। আর এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। পদ দেয়ার বিনিময়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ফলে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থান পেয়ে যায় দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রীয় থাকা নেতাকর্মীরাও। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের তেমন একটা অংশগ্রহণ মিলছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর