বিএনপির রাজনীতির ঊর্ধ্বের জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু অস্বাভাবিক!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
বিএনপির রাজনীতির ঊর্ধ্বের জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু অস্বাভাবিক!

প্রয়াত বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌস স্মরণে নাগরিক শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নাগরিক শোক সভা উদযাপন কমিটির ব্যানারে শোক সভাটি পালিত হয়।

শোক সভায় সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌসের বিচরণ ছিল বহুমুখী। শুধু বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়। তার শূণ্যতা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনেও বিরাজমান। জান্নাতুল ফেরদৌসকে হয়তো আর ফিরে পাবো না। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার আগেও তাঁর কষ্টের কিছু কথা তিনি বলে গেছেন। আজকে হয়তো বা এই উপস্থিতিতে তার আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক বলেন, নারায়ণগঞ্জের নাগরিক আন্দোলনের সব জায়গাতেই আমি তাকে পেয়েছি। অবশ্যই সে একজন ভালো রাজনৈতিক কর্মী, ভালো মানুষ ছিলেন। ফেরদৌস যতদিন আমাদের সাথে ছিল প্রতিটি আন্দোলনে, কর্মসূচীতে সে নিবিড়ভাবে আমাদের সাথে যুক্ত ছিল। সে কোন সময় পিছপা হয় নাই।

নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস সেই নেতা ছিলেন যে নেতা স্বৈরাচারী আন্দোলন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আমরা যখন জেলে ছিলাম। তখন তিনি আমাদের মুক্তির লড়াই এগিয়ে নিয়ে গেছেন। নির্যাতনের পরেও তিনি আন্দোলনে ছিলেন। জান্নাতুল ফেরদৌসের মত নিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ তৈরী না করতে পারলে নারায়ণগঞ্জে আরো কষ্ট হবে।

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন মন্টু বলেন, আজকে আমরা বলেতে আসি নাই যে পেঁয়াজের দাম কেন এত বেশি। রাতের আধারে কেন ভোট হয়? আমরা শুধু ফেরদৌসের আত্মার মাগফিরাতের কামনা করি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস বলেন, প্রায় ৯মাস আগে পুলিশের বেধড়ক মারধরের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর পর বিভিন্ন চিকিৎসা করার পরেও সুস্থ্য হন নাই। আল্লাহ তার মৃত্যুকে কবুল করেছিলেন।

মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস কোন জায়গায় ছিলেন না? ছড়াকার, সংগঠক, পথশিশুদের নিয়ে, রাজনীতিতে সর্বত্রই ছিল তাঁর বিচরণ। অনেককেই তিনি নেতা বানিয়েছিলেন, এমপি মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা এখন কোথায়? ওয়ান ইলেভেনের কথা মনে পড়লে শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। সেই দুঃসময়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নারায়ণগঞ্জে গর্জে উঠেছিলেন। কিন্তু এমন এক সময়ে তিনি চলে গেলেন যে সময়ে দেশের এ কি অবস্থা?

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনটির সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, আমার সাথে তাঁর স্কাউট সংগঠক হিসেবে পরিচয় হয়। সেখান থেকে একই প্লাটফর্মে রাজনীতি করার সুযোগ হয়েছিল। তিনি সর্বদলীয় একজন মানুষ ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় যখন জেনারেল সাহেবরা আমাদের দুই নেত্রীকে মাইনাস করতে চেয়েছিল তখন নারায়ণগঞ্জে তিনিই প্রথম সংগ্রাম করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপির অত্যন্ত দুঃসময়ে যখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি শূন্য ছিল। নেতাদেরকে আটক করে জেলে ভখরা হয়েছিল। তখন তিনি আমাদেরকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আমরা ফেরদৌসকে ভাইকে ভুলতে পারি না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধরণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে আমরা ফেরদৌস ভাইয়ের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। সারা বাংলাদেশে যুব ঐক্যপরিষদ গঠন হয়েছিল। আমরা সেই ২২ দলীয় সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলনে নেমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলাম।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনটির সংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ওনার মত সৎজন মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। কিন্তু ফেরদৌস এর মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হলেও সেটা স্বাভাবিক ছিল না। একজন সিনিয়র মানুষের চোখের উপরে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস যে ভাবে নির্মম ভাবে আঘাত করে চোখ নষ্ট করে দেয়, পেটানো হয়। এর পর থেকে আর তিনি সুস্থ হয়ে দাঁড়াতে পারেন নাই। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোনো সময় যে কোন মানুষের উপরেই এই অবস্থা নেমে আসতে পারে এটা যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, গত ৪ নভেম্বর ফেরদৌস ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ওনার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, এখানে আরো অনেকের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তাঁর হাত ধরে অনেকে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এখানে তাঁরা উপস্থিত নেই এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের আহবায়ক এমএ আসলাম বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস ভাই আমাদের নেতা ছিলেন। ওনার গুণাবলি বলে আমরা শেষ করতে পারবো না। কর্মীদের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা। তিনি যেভাবে কর্মীদের কাছে টেনে নিতেন সেই আক্ষেপটা চলে গেল ওনার যাওয়াতে।

নারায়ণগঞ্জ মহাগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্তু বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস ভাইয়ের সাথে আমার দীর্ঘ দিনের পরিচয়। শুধু একটা কথাই বলতে পারি। দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক মাকিদ মুস্তাকিম শিপলু বলেন, শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে ফেরদৌস ভাইয়ের আদেশে আমি প্রথম মাইকে সবার সামনে বক্তব্য দেই। তাঁর পর থেকেই আমি সংগঠনের সাথে যুক্ত, রাজনীতির সাথে যুক্ত। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এমএ মান্নান বলেন, প্রিয় জান্নাতুল ফেরদৌস ভাই একজন মানবীক গুণাবলি সম্পন্ন মানুষ ছিলেন। যিনি শিশু কিশোরদের নিয়ে অনেক সচেতনতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। যে কারণে আমরা তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুক সেই দোয়া করি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর