বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টারে ঠাঁই হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টারে ঠাঁই হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের

রাত পোহালেই দেশব্যাপী পালন করা হবে বিজয় দিবস। তাই বাঙালী জাতির প্রত্যাশিত এই বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য রাজনৈতিক সংগঠন থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যানার পোস্টার সাটানো হয়েছে শহরের অলিতে গলিতে ও দেয়ালে। অথচ যাদের আত্মবিসর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা বিজয়ের স্বাদ পেলাম, বাঙালি জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঠাঁই হচ্ছে না এসব ব্যানার পোস্টারে।

১৫ ডিসেম্বর রোববার নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, দূরপাল্লার পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সহ নানান সংগঠনের নামে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে শহরের রাস্তাঘাট, দেয়াল এখন ছেয়ে গেছে বিভিন্ন সংগঠনের বিজয়ের শুভেচ্ছা জানানো পোস্টারে। কিন্তু সেসব ব্যানার পোস্টারে ঠাঁই হয়নি ৩০লাখ শহীদের কারো ছবি কিংবা নাম। এমনকি এসব পোস্টারে নেই জাতিয় চার নেতা, সাত বীর শ্রেষ্ঠ, এমনকি বাঙালি জাতির মুক্তির অন্যতম নেতা মাওলানা ভাসানীর ছবি।

তবে চাটুকারিতার জন্য বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানানো এসব ব্যানার পোস্টারে স্থানীয় নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যাক্তির ছবি ও নিজের একটি ছবি ছাপানো হয়েছে বেশ বড় করে। এসব ব্যানার পোস্টারে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিটা ছোট করে ছাপানো হয়েছে এক কোনায় ছোট করে। যদিও অনেকে অভিযোগ করেছেন জাতির জনকের এই ছবিটিও ছাপানো হতো না যদি না তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা না হতেন।

এসব পোস্টার দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী মিলন হাওলাদার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পোস্টারগুলা শুভেচ্ছা জানানোর জন্য না বরং নেতাদের চাটুকারিতার জন্য এটা পোস্টার দেখলেই বঝা যায়। কারণ দেওয়ালে যত পোস্টার দেখলাম সবগুলাতেই অমুক নেতা তমুক নেতার বড় ছবি। নিজের একটা ছবি দিয়ে দুই তিনটা নেতার ছবি দিয়ে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা লিখে পোষ্টার ছাপিয়ে শহরে লাগালে শুধু শহরটাই নোংরা হবে। এতে দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি বা স্বাধীনতার চেতনা প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায় না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শরিফুল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, পোস্টারগুলোতে জায়গা পাওয়ার কথা ছিল জাতির জনকের, জাতীয় চার নেতা, সাত বীর শ্রেষ্ঠ সহ মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি। কিন্তু চাটুকারিতা কার জন্য এরা এলাকার পাতি নেতাদের ছবি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে। একই সাথে স্বাধীন হওয়ার পরেও এরা নিজেদেরকে পরাধীন হিসেবে উপস্থাপন করে।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের জানতে হবে। আমরা যখন মুক্তিযোদ্ধাদের জানতে পারবো তখনি আমরা পরবর্তি প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে পারবো। তাই যারা এসব পোষ্টার ছাপিয়ে দেওয়া লাগায় তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে যাতে নিজেদের ছবি না ছাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, জাতির জনকের ছবি, আমাদের চার নেতা ও সাত বীর শ্রেষ্ঠ সন্তানের ছবি ছাপানো হয়। এর মাধ্যমেই দেশ প্রেমের পরিচয় পাওয়া যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর