বিএনপিতে বড় ধরনের বিদ্রোহ নাকি ষড়যন্ত্র


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
বিএনপিতে বড় ধরনের বিদ্রোহ নাকি ষড়যন্ত্র

বিএনপির নিজ দলের মহাসচিব সহ নারায়ণগঞ্জ জেলার শীর্ষ পদীয় নেতাদের বিরদ্ধে মামলা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ও কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। নিজ দলের বিরুদ্ধে করা এই মামলাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে অনেকে বিরুপ মন্তব্যও রয়েছেন। এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির এই ত্রাহিদশার মধ্যে নিজ দলের নেতাকর্মী কর্তৃক মামলার রোশানলে পড়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এর পেছনে বিএনপিতে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের লক্ষণ পাচ্ছে নেতাকর্মীরা। তাছাড়া দলের ভেতরে ক্ষোভ থেকে বড় ধরনের বিদ্রোহ তৈরি হলেই কেবলমাত্র এরুপ কর্মকান্ড করা সম্ভব। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ভবিষ্যৎ অবস্থান ভাল নেই তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন দায়ের করেছেন বিএনপির দুইজন নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে ওই মামলার আবেদন করা হয়। গত ১২ নভেম্বর আদালতে শুনানী শেষে আদালত পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে কেন কমিটি অবৈধ হবে না জানিয়ে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ১৩ নভেম্বর আদালত থেকে এ সংক্রান্ত নোটিশ বিবাদীদের হাতে দেওয়া হয়। মামলার বাদীরা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুসারী বলে জানা গেছে। তার বিভিন্ন সভা সমাবেশে বাদীদের দেখা মিলে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৪ এর ক অনুচ্ছেদে বলা আছে সরকার নির্ধারিত ও নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত এলাকা নিয়েই কমিটি গঠিত হবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে মহানগরের আওতাধীন ১ হতে ১০ নং ওয়ার্ডকে মহানগরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক, আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী অ্যাডাভোকেট জালালদ্দিন নগরী ও ব্যারিস্টার মো. এনামুল কবির।

মামলার শুনানী বিষয়ে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ বলেন, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি কেন্দ্র কর্তৃক অনুমোদিত ঘোষিত এবং বৈধ। সেই কমিটিকে কিছু বিশৃংখলাগামী দলীয় কর্মকান্ডের বাইরে থাকা লোকজন একটি মোকদ্দমা দায়ের করেছে। যার কোন আইনত বিধান নেই। সেখানে তারা বলছে এই কমিটি অবৈধ। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে কোর্ট শোকজের ৭ দিনের মধ্যেই আমরা হাজির হয়ে সময় চেয়েছি আমরা লিখিত আপত্তি দিব। তাদের আরও একটি আবেদন হচ্ছে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা। আমরা এটার আপত্তি দাখিল করেছি। আমাদের আপত্তির উপর শুনানীর ভিত্তিতে আদালত বাদী পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তবে গুলজার হোসেন খান মহানগর কমিটির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘনিষ্ঠজন হলেও এক সময়ে ছিলেন সভাপতি আবুল কালামের আস্থাভাজন। সুসম্পর্ক ছিল সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গেও।

ওই সময়ে প্রতিক্রিয়ায় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেছেন, ‘‘যেখানে আমাদের নেত্রী কারাগারে এবং নেত্রীর মুক্তির দাবীতে আন্দোলনের দানা বাঁধছে। সে সময় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমকে যারা স্থবির করতে চায়, যারা আদালতের আদেশ চায় বন্ধ করার জন্য। তাহলে এটার পিছনে কারা, তাদের গোড়া কোথায়, সেটা আমাদের বুঝার বাকি নাই। সেটা আমরা বুঝতেছি এবং অবশ্যই দলের কাছে এ ব্যাপারে আমরা সমাধান চাইবো। রাজনৈতিকভাবে আমরা এটা মোকাবেলা করবো।’’

সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান উচ্চ বিলাসী। অতি তাড়াতাড়ি সে এমপি মন্ত্রী হতে চায়। গত মেয়র নির্বাচনে সে নির্বাচনে পাশ করার চেয়ে বেশি চাঁদাবাজি নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এখন আবারও চিন্তা করছে নমিনেশন পাওয়া যায় কিনা। সে বিজয়ী হওয়ার জন্য দলের নমিনেশন চায় না। চাঁদাবাজীর জন্য দলের নমিনেশন চায়। তার ইন্ধনে দলের মহাসচিবের বিরুদ্ধে দলকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয় এবং নিন্দনীয় কাজ। আমরা এ ব্যাপারে কেন্দ্রে অবগত করেছি। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা নির্বাহী কমিটির সদস্যরা অনাস্থা প্রকাশ করেছি। আমরা তার বহিস্কারের জন্য আবেদন করেছি।’’

দলীয় নেতাকর্মী বলছে, যেসব বিএনপির নামধারী নেতারা বিএনপির বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে তারা কোনভাবেই এই দলের নেতা হতে পারেনা। এছাড়া যারা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক। এর ফলে একদিকে দলের ভেতরে বিদ্রোহ দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্যদিকে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রও দৃশ্যমান হচ্ছে। এখন সময় এসেছে বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর। দলের বিতর্কিতদের মাইনাস করে ত্যাগীদের পদায়িত করা। তবেই দল শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর