আইভীর চেয়ারে ব্যবসায়ী নজর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:০৭ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
আইভীর চেয়ারে ব্যবসায়ী নজর

আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের এখনো বাকি ২ বছর। তবে নির্বাচনের দুই বছর আগে থাকেতই ভেতর ভেতর শুরু হয়েছে নানা মেরুকরণ। রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনে আতিকুল ইসলামকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর রাজধানীতে ঢাকা-১০ আসনে উপ-নির্বাচনে নৌকার টিকেট পেলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি মনোনয়ান পাওয়ার পর এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেও ব্যবসায়ীদের নজর পড়তে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন, আগামী নির্বাচনে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী নেতা সিটি করপোরেশনে মনোনয়ন চাইবে। আর সে লক্ষ্যেই তারা এখন থেকে কাজ করতে শুরু করেছেন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, রাজধানীর উত্তরে আগে মেয়র ছিলেন আনিসুল ইসলাম। তিনি মেয়র হয়েই একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করেন। বদলে যেতে শুরু করে রাজধানীর উত্তরের চেহারা। হঠাৎ তিনি ইন্তেকাল করলে সেখানে উপ নির্বাচনে মেয়র হন আরেকজন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। গত ৩০ জানুয়ারী মেয়র নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পান। এবারও তিনি জিতেন বিপুল ভোটে। নৌক প্রতীকে আতিকুলের জয়ের পর আলোচনায় উঠে আসে ঢাকা-১০ আসনের দিকে। এ আসনের আগে এমপি ছিলেন ফজলে নূর তাপস। তিনি এমপি থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়েন এবং জিতে যান।

১৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ঢাকা-১০ আসনে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান।

এসব কারণে আগামীতে বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ব্যবসায়ীরা তলে তলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে শলা পরামর্শও হয়েছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের যেসব ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের শীর্ষস্থানীয়দের সু সম্পর্ক আছে তাদের সঙ্গেও এখন থেকে শুরু হয়েছে যোগাযোগ রক্ষা। মূলত আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যেই বিষয়গুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, আইভী টানা তিনবারের জনপ্রতিনিধি। সে কারণেই এবার ব্যবসায়ীদের পক্ষে অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তারা চাচ্ছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে লড়তে। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা-১০ আসনে দুইজন ব্যবসায়ীর মনোনয়নকেই এখন পুঁজি করা হচ্ছে।

নগরবাসীর মতে, টানা তিনবারের জনপ্রতিনিধি আইভী। একবার বিলুপ্ত পৌরসভা ও দুইবার সিটি করপোরেশনে। এর মধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সময়ে ২০০৩ সালে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বাজিমাত দেখান আইভী। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর শামীম ওসমানের সঙ্গে লড়ে মেয়র হন তিনি। আর সবশেষ ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মত প্রতীকের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা তুলে দেন আইভীর হাতে। তিনিও এ নৌকাকে ভাসিয়ে ডুবিয়ে দেন ধানের শীষকে।

২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বরের নির্বাচনের অন্তত দেড় বছর আগে থেকেই আনোয়ার হোসেন বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তখন আইভীর বিপরীতে আনোয়ার হোসেন ছিল শক্তিশালী। তাছাড়া তিনি নিজেও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। ক্লিন ইমেজধারী হওয়াতে অনেকেই ভেবেছিলেন আইভীর মনোনয়ন পাওয়াতে কঠিন বাধা হতে পারেন আনোয়ার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আইভীকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়ে আনোয়ারকেও পুরস্কার করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বানিয়ে।

তবে আসছে নির্বাচনে এখনো আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে শক্তিশালী শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বির নাম শোনা যাচ্ছে না। তবে ভেতরগতভাবে একাধিক ব্যবসায়ী, মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতা ও একজন নারী নেত্রী প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানা গেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটা প্রকাশ হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীতে আইভীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন চাওয়ার আগে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করা হতে পারে। মূলত এমন কিছু ইস্যু সৃষ্টি করা হতে পারে যার জন্য তিনি মনোনয়ন না পান। সে প্রচেষ্টাতেই অনেকে। যদিও এর আগে দুর্নীতি সহ অনেক অভিযোগ উত্থাপনের পরেও সেটা খারিজ হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ৫ বছরের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র হলেও ইতোমধ্যে তিন বছর শেষ হয়ে গেছে। আগামী ২০২১ সালের শেষ কিংবা ২০২২ সালের শুরুতেই আবারও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তার আগে থেকে শুরু হবে মেয়র প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ। ফলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই থেমে যাবে উন্নয়ন কার্যক্রম। এতে করে উন্নয়ন প্রকল্পের নির্দিষ্ট সময় থাকলেও প্রশাসনিক সহ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর