অনুগামীদের পিছটানে নীরব সাখাওয়াত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
অনুগামীদের পিছটানে নীরব সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন আলোচিত সমালোচিত নেতা হলেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতির পদ পেয়ে গেলেও তিনি কখনই মহানগর বিএনপির ব্যানারে একত্রে কর্মসূচি পালন করেনি। বিএনপির ঘোষিত যে কোনো কর্মসূচিতেই তিনি তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেকে মহানগর বিএনপির বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে নিজেকে জাহিরের চেষ্টা চালিয়ে থাকেন। আর যাদেরকে নিয়ে তিনি রাজনীতি করতেন তাদের বেশির ভাগই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বিতর্কিত।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অনেক নিরব ভূমিকা পালন করছেন। সবশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি তাকে সম্মান জানাতে দেখা যায়নি। অথচ এর আগে প্রায় প্রত্যেকটি দিবসেই তার সক্রিয় ভূমিকা পরিলক্ষিত হতো। কিন্তু এবার আর সাখাওয়াত হোসেন খানকে সেই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। আর এর কারণ হিসেবে জানা গেছে যাদেরকে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেকে জাহিরের চেষ্টা চালাতেন তাদের সাথে বিরোধ চলছে। আর তাই কিছুদিন ধরে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নিরব হয়ে গেছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কোন রাজনৈতিক ঐতিহ্য না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি পদটিও বাগিয়ে নিয়েছেন সাখাওয়াত। আর এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে রয়েছে তার অনেক বিতর্কিত ভূমিকা। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বিতর্কিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মহানগর বিএনপিতেও আলাদভাবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি। দলীয় কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির নেতাদের উপস্থিতি না থাকলেও বিতর্কিতদের নিয়েই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন নিজেকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকে শক্তিশালী করে আসছিলেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান একসময় বিএনপির রাজনীতিতে দাবড়িয়ে বেড়ালেও বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত হিসেবেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। আর এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তার রয়েছে নিজস্ব কর্মীবাহিনী। যারা জাকির খানের অনুপস্থিতে জাকির খানের নাম ফেরি করে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অঙ্গনে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। জাকির খান পলাতক থাকলেও তার কর্মীবাহিনীর নির্যাতন নীপিড়ন এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি।

আর এই বিতর্কিত নেতার কর্মীবাহিনীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এর বিনিময়ে তাকে দেয়া হচ্ছিল রাজনৈতিক সমর্থন। বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও দলীয় কর্মসূচিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে জাকির খানের সমর্থিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকতেন। সেই সাথে তাদেরকে বিএনপির বিভিন্ন পদ পদবীতেও জায়গা করে দেয়া হয়েছিল। যাদেরকে নিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধে দিয়ে নিজের প্রভাব জাহিরের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাকির খানের সমর্থিত নেতাকর্মীদের সাথে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছে না। জাকির খানের কর্মী সমর্থকরা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে এড়িয়ে চলছেন। ফলে অ্যাডভোকেট হোসেন খানের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিও তেমন একটা জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নিজস্ব কর্মী বাহিনী নেই। সবসময় তিনি অন্যের উপর ভর করে চলেছেন। কিন্তু এবার অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান যাদের উপর ভর করে আসছিলেন তারা দূরে সরে গেছেন। ফলে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও রাজনীতিতে অনেকটা নিরব হয়ে গেছেন।

বিএনপি দলীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনে বিএনপির রাজনীতি শুরু। তিনি বিএনপির সমর্থনে ও সমর্থন ছাড়াও কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাধে তিনি বিএনপির রাজনীতিবিদ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হতে থাকেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সারাদেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাত খুনের ঘটনায় আসামীদের বিপক্ষে আইনজীবী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ায় আলোচিত মুখ হয়ে যান তিনি।

এর পরপরই ঘনিয়ে আসে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন নেতা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক না থাকায় সহজেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নিজের পক্ষে কোন জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও বিনা বিরোধীতায় প্রার্থী হয়ে যান। ফলে নির্বাচন শেষে আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থীর সাথে তার বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় ঘটে। যদিও তার দাবি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কিন্তু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও কোন অভিযোগ করিনি।

এরপর ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হয়ে যান। এর আগে ২০০৯ সালে শহর বিএনপির মুলধারার কমিটিতে ঠাই না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন সাখাওয়াত। যেখানে নুরুল ইসলাম সর্দারকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর