ছাত্রদলে কালো থাবা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৮ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
ছাত্রদলে কালো থাবা

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে প্রায় ২ বছর অতিক্রম করতে চলছে। তবে এখনও তাদের অধীনে থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা সম্ভব হয়নি। সেই সাথে থানা ও ওয়ার্ডেও সক্রিয়তা ফিরে আসছে না।

এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কিন্তু এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দরা। তারা তাদের জিদ মেটানোর জন্য তাদের সমর্থিত ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ৫ জুন তৎকালিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান মিন্টু স্বাক্ষরিত নারায়গঞ্জ মহানগর কমিটির অনুমোদন দেন।

ওই কমিটিতে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি করা হয়েছে শাহেদ আহমেদকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মমিনুর রহমান বাবুকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় মারুফুল ইসলাম পাপনকে।

একই সাথে মহানগর কিমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে রাফিউদ্দিন রিয়াদ, ৬জন সহ সভাপতি শাকিল মিয়া, নাজিম পারভেজ অন্তু, শফিকুল ইসলাম শফিক, আলতাফ হোসেন ইব্রাহীম, সিরাজ উদ্দিন প্রধান দর্পন, হামিদুর রহমান সুমন। ৫ জন যুগ্ম সম্পাদক আলামিন প্রধান, লিংরাজ খান, রাকিবুর রহমান সাগর, সাজ্জাদ হোসেন ও ইব্রাাহীম বাবু।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ওই কমিটি গঠনের পর পরই অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসেন সভাপতি শাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। আংশিক কমিটি গঠনের বছরই মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২৩৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসেন।

এরপর থেকেই তাদের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোও নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সভাপতি শাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। কিন্তু বার বার নানা প্রতিবন্ধকতায় তারা আটকে যাচ্ছেন। এবারও সেই প্রতিবন্ধকতার মুখেই পড়েছেন তারা। মহানগর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মনিরুল আলম সজলের নিজের জিদ মেটাতে গিয়ে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে তারা সামনে এগোতে পারছেন না।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিট কমিটি গঠন নিয়ে গত ২১ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগীয় টিমের সঙ্গে এক বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহমেদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি রাফিউদ্দীন রিয়াদের তর্ক বিতর্কের ঘটনা ঘটে। আর এটা করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে যাতে সাহেদ ইউনিট কমিটিগুলো গঠন করতে না পারেন। সেই লক্ষ্যে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল আলম সজল তার সমর্থিত মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রাফিউদ্দীন রিয়াদের মাধ্যমে কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন।

আর এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারী তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল তিন থানা ছাত্রদলের ৪ কমিটি, নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ শাখা কমিটি গঠন করেছিলেন।

কিন্তু এই কমিটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়কেরা। যেখানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি সাহেদ আহমেদ ছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল মনিরুল ইসলাম সজল অগঠনতান্ত্রিকভাবে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করেছে।

সজল আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে কমিটি বাণিজ্য করেছে। যে কারণে সে এ কমিটি গঠন করেছে। যুগ্ম আহবায়কদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এসকল ইউনিট কমিটিগুলো গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাতিল করতে বাধ্য হন তৎকালীন মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মনিরুল আলম সজল।

আর সেই জিদের বসেই তার সমর্থিত বর্তমান কমিটির কয়েকছন ছাত্রদল নেতাদের দিয়ে বর্তমান সভাপতি সাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবুকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এরই মধ্যে শাহেদকে দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের হুমকি যাদের কেউ কেউ সরাসরি সজলের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। সে প্রমাণও রয়েছে এ প্রতিবেদকের কাছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর